দীর্ঘ টালবাহানা এবং প্রায় ছয়বারের বৈঠকের পরে অবশেষে চূড়ান্ত হয়েছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি। ভারতের উপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে আমেরিকা। এরপরেই মঙ্গলবার এনডিএ সাংসদদের বৈঠকে হাততালী এবং প্রশংসায় ভেসে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বিজেপি সংসদীয় দলের বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ইইউ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মরিশাস, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড এবং এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফলভাবে বড় বড় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। তিনি আরও বলেন, "এটি কোনও সাধারণ অর্জন নয়। বিশ্বজুড়ে ভারতের স্বীকৃতি এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাণিজ্য চুক্তি ভারতের উপর বহু দেশের আস্থার প্রতিফলন ঘটায়। এটি দেশের অর্থনীতিকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।"
যদিও এই বাণিজ্য চুক্তিকে ফের মোদির পরাজয় হিসেবেই দেখছে বিভিন্ন বিরোধী দল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে দিল্লি। পরিবর্তে আমেরিকার থেকে তেল কিনবে ভারত।
প্রধানমন্ত্রী মোদি সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের পরে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারত এবং আমেরিকা একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এরপরেই ওয়াশিংটন ভারতীয় পণ্যের উপর পারস্পরিক শুল্ক বর্তমান ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে বলেও জানান তিনি। এর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
যদিও এই বাণিজ্য চুক্তিকে ফের মোদির পরাজয় হিসেবেই দেখছে বিভিন্ন বিরোধী দল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে দিল্লি। পরিবর্তে আমেরিকার থেকে তেল কিনবে ভারত। এছাড়াও আমেরিকা থেকে ৪৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৬২২ কোটি টাকার পণ্যও ভারত কিনবে বলে কথা দিয়েছেন মোদি। এই শর্তেই নাকি ইন্দো-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়টিকে সামনে এনে কটাক্ষ করছে কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধী দলগুলি।
যে বিপুল শর্তের বোঝা মাথায় নিয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে তাতে ট্রাম্পের সামনে মোদি মাথা নত করেছেন বলেই দাবি বিরোধীদের। তাদের বক্তব্য, শুল্ক কমেছে ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্রের সম্মান বিকিয়ে। ভারতকে ‘পুতুলের’ মতো নাচাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যস্ত তোষামোদ করতে। হাত শিবিরের আরও অভিযোগ, মোদি জমানায় দেশ ট্রাম্প নির্ভর হয়ে উঠেছে।
