লোকসভায় স্পিকারকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের আগেই প্রকাশ্যে তাঁর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার রাজস্থানে কোটা–বুন্দি গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-র প্রশংসায় মুখর হন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, সোমবার লোকসভায় স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সম্ভাব্য অপসারণ প্রস্তাবের আগেই এই মন্তব্য কার্যত বিড়লার পাশে থাকার স্পষ্ট বার্তা।
এদিন কোটা–বুন্দি গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন মোদি। সেখানেই কোটা কেন্দ্রের সাংসদ ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কোটা শহরের উন্নয়নে বিড়লার অবদান সকলের কাছেই স্পষ্ট। শুধু সাংসদ হিসেবেই নয়, লোকসভার স্পিকার হিসেবেও তিনি অসাধারণ দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন, কখনও কখনও সংসদে প্রভাবশালী পরিবারের “উদ্ধত ও অবাধ্য ছাত্রদের” মতো আচরণ করলেও বিড়লা ধৈর্য ধরে সকলকে সামলান। কাউকে অপমান না করে ধৈর্যের সঙ্গে সকলের কথাই তিনি শোনেন এবং দলমত নির্বিশেষে সকল সাংসদকে সম্মান করেন বলেও দাবি করেন মোদি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য নিছক প্রশংসা নয়! বরং আসন্ন সংসদীয় সংঘাতের প্রেক্ষিতে স্পিকারের প্রতি বিজেপির স্পষ্ট সমর্থনের বার্তা। কারণ বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য যথেষ্ট। কারণ বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সোমবার লোকসভায় স্পিকারের বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাব আনতে পারে বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই বিষয়টি ঘিরে সংসদে উত্তেজনা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য সমর্থন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, স্পিকারকে ঘিরে বিরোধীদের চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার ও বিজেপি শিবির একজোট। ফলে সোমবার লোকসভায় স্পিকারকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক লড়াই জমতে চলেছে, তা যে টানটান ও উত্তপ্ত হতে পারে, সে ইঙ্গিতই মিলছে এখন থেকেই।
