নেপাল বিপর্যয়ে স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়রা। বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ২৮৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, দীর্ঘ চেষ্টার পর তামিলনাড়ুর ২১ জনকে উদ্ধার করা গিয়েছে। কৈলাস যাত্রায় নেপাল হয়ে চিনে প্রবেশ করেছিলেন ২০০ জন। তাঁরা সেখানে আটকে রয়েছেন। ভারতীয় দূতাবাসের তরফে এই তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্ধারের যাবতীয় চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া নেপালের ত্রিশূলী পাওয়ার প্রোজেক্টে কর্মরত ৭৩ ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে সময় যত গড়াচ্ছে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ৩৫৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে নেপালে।
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভয়াবহ বিপর্যয়ে (Nepal Flood) গতকালই প্রধামন্ত্রী নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল রাতেই মানবিক সহায়তা নিয়ে কাঠমান্ডু নামে একটি বিমান। তাতে ১০টন সামগ্রী ছিল। এছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে আরও একটি বিমান ৩৭.৫ টন ত্রাণ নিয়ে কাঠমান্ডু পৌঁছেছে। পাশাপাশি নেপালে উদ্ধারকাজেও যাবতীয় সহায়তা করা হচ্ছে। আমাদের এখান থেকে একটি কন্ট্রোলরুম ও হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। হেল্পলাইন চালু হয়েছে নেপাল ও বেজিংয়ের ভারতীয় দূতাবাসেও।
কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, যাঁরা নেপাল ও কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন তাঁদের পরিবারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। যে কোনওরকম তথ্য সঙ্গে সঙ্গে পরিবারগুলিকে জানানো হচ্ছে। এর সঙ্গেই বিদেশমন্ত্রক জানায়, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে একাধিক ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে মানুষ নেপাল গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নেওয়া তথ্য ও নেপালে কর্মরত মিলিয়ে মোট ২৮৮ জন ভারতীয় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতে উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন ২০০ জন। জয়সওয়াল এটাও জানান, যেটুকু যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে তা প্রাথমিক। বাস্তবে সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারে। বিপর্যয়ের জেরে নেপালের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সেখান থেকে ভারতীয়দের উদ্ধারের।
