লালকেল্লার নেতাজি সংগ্রহশালা থেকে সুভাষচন্দ্র বসুর একটি টুপি উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এক্স হ্যান্ডলে ছবি পোস্ট করে এই বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্বয়ং নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্রকুমার বসু। যদিও পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের তরফে জানানো হল, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর ঐতিহাসিক টুপি খোয়া যায়নি। সেটি নিরাপদেই রয়েছে। চন্দ্রকুমার বসু ঠিক কী অভিযোগ করেছিলেন?
পরাক্রম দিবসের অনুষ্ঠানে প্রদর্শনের জন্য নেতাজির টুপিটি পোর্ট ব্লেয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফলে ১৯ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সংগ্রশালার নির্দিষ্ট স্থানটি ফাঁকা ছিল। পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ জানায় প্রদর্শনী ফুরোতেই সেটিকে নির্দিষ্ট স্থানে ফেরানো হয়েছে। ঠিক এই বিষয়টিতেই সংশয় প্রকাশ করেছেন চন্দ্রকুমার বসু। শুক্রবার টুইট করে দ্রুত নেতাজির টুপিটি লালাকেল্লায় ফেরানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান চন্দ্রকুমার বসু। যদিও শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "নেতাজি গবেষক ও যাঁরা নেতাজির টুপিটি আগে দেখেছেন, তাঁদের মতে এটি আসল টুপি নয়। বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন।"
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি নেতাজি জয়ন্তীর দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে নেতাজির টুপিটি তুলে দেন পরিবারের সদস্যরা। মোদিকে তাঁরা অনুরোধ করেন, ঐতিহাসিক টুপিটি যেন লালকেল্লার নেতাজি সংগ্রহশালায় রাখা হয়। যদিও বিভিন্ন অজুহাতে বারবার সেটিকে সংগ্রহশালা থেকে সরানো হয়েছে। পরাক্রম দিবসের সাম্প্রতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও ২০২১ সালে টুপিটিকে সাময়িকভাবে সরানো হয়েছিল। সেবারে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ জানায়, সেটি ভিক্টোরিয়া মোমোরিয়ালে প্রদর্শনের জন্য সাময়মিক ভাবে কলকাতায় পাঠানো হয়েছিল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকান্দের মতোই বাঙালি সংস্কৃতির আবেগের অংশ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। সেই আবেগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাতে পিছপা হয় না রাজনৈতিক দলগুলি। অথচ নেতাজের টুপিকে অবহেলার অভিযোগ উঠছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে কি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কারের মতো এবার নেতাজির টুপিও উধাও হয়ে গেল?
