ইরান যুদ্ধের জেরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে। প্রথমে সংকটের কথা মানতে না চাইলেও শনিবার মোদি সরকার স্বীকার করেছে, গ্যাস সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রল-ডিজেল বিক্রি নিয়েও বড়সড় নির্দেশিকা দিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। পেট্রল পাম্পগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হল, খালি, অসুরক্ষিত পাত্রে আর পেট্রল-ডিজেল বিক্রি করা যাবে না। সাধারণ গ্রাহকদেরও পেট্রল-ডিজেল মজুত না করতে অনুরোধ করেছে কেন্দ্র।
কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছিলেন, দেশে গ্যাস বা তেলের কোনও সংকট নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু শনিবার কেন্দ্র মেনেছে, দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোনও বিতরণ কেন্দ্রেই গ্যাস ফুরিয়ে না গেলেও সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। একই দিনে পেট্রল-ডিজেল নিয়েও বার্তা দিয়েছে মোদি সরকার। কেন্দ্রের দাবি, দেশে পেট্রলের কোনও সংকটের পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। সারা দেশে পেট্রল এবং ডিজেল পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। সেই কারণে গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।
একই সঙ্গে কেন্দ্রের আর্জি, গ্রাহকরা যেন অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে পেট্রল বা ডিজেল মজুত না করেন। তাতে বাজারে চাহিদা বেড়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে। তাছাড়া, খালি বা অনুপযুক্ত পাত্রে পেট্রল বা ডিজেলের মতো দ্রব্য সংরক্ষণ করা কখনওই উচিত নয়। কারণ এগুলি নিরাপদ নয়। আসলে গ্যাসের সংকটের জেরে অনেকেই পেট্রল-ডিজেলের ক্ষেত্রে একই পরিস্থিতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। পেট্রল পাম্পগুলিতে লম্বা লাইন পড়ছে। অনেকেই খালি পাত্র বা সুরক্ষিত নয়, এমন পাত্রে পেট্রল সংরক্ষণ করছেন। সেটাই বন্ধ করতে চায় কেন্দ্র।
পেট্রল পাম্পগুলিকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনওভাবেই খালি বা সুরক্ষিত নয়, এমন পাত্রে পেট্রল-ডিজেল বিক্রি করা যাবে না। নিয়মের বাইরে গিয়ে কেউ যদি কোনও ক্রেতাকে খালি বা অনুপযুক্ত পাত্রে জ্বালানি তেল দিলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুর একটি পাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
