নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বন্ধুত্ব’ নাকি খুব মজবুত। আর তাতেই নাকি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সাফল্যের মুখ দেখেছে। একটি সংবাদমাধ্যম আয়োজিত আলোচনা সভায় এই তথ্য জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গোর। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দাবি, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে বন্ধুত্ব দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের দরজা খুলতে সাহায্য করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, দেশের স্বার্থের থেকে বন্ধুত্ব কীভাবে ‘অগ্রাধিকার’ পেতে পারে একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে?
ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির বন্ধুত্ব যে খুবই মজবুত তার প্রমাণ একাধিকবার মিলেছে। সরকারি-বেসরকারি নানা অনুষ্ঠানে তাঁদের সেই বন্ধুত্বের ‘নজির’ দেখেছে দুই দেশের মানুষই শুধু নয়, গোটা দুনিয়া। তবে সের্জিও গোরের দাবি, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে ‘ফিনিশিং লাইনে’ ছিলেন শুধুমাত্র ট্রাম্প আর মোদিই। অথচ সেই ‘বন্ধুর’ দেশকেই ‘অনুমতি’ না দেওয়ার মতো অবস্থান নিয়েছে আমেরিকা। একাধিক সময়ে চাপিয়েছে শুল্কের বোঝা। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থ আর বন্ধুত্ব– দুই-ই কীভাবে সামলেছেন মোদি?
সের্জিও গোরের দাবি, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে ‘ফিনিশিং লাইনে’ ছিলেন শুধুমাত্র ট্রাম্প আর মোদিই। অথচ সেই ‘বন্ধুর’ দেশকেই ‘অনুমতি’ না দেওয়ার মতো অবস্থান নিয়েছে আমেরিকা। একাধিক সময়ে চাপিয়েছে শুল্কের বোঝা।
গোরের আরও দাবি, তেলের দামে নিয়ন্ত্রণ রাখতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে ও করবে। সের্জিও গোর জানান, “এটি ওয়াশিংটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। বাজারে তেলের সাপ্লাই ধরে রাখতে ইতিমধ্যেই নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক অয়েল রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। এর পাশাপাশি কিছু তেলবাহী জাহাজকে বিকল্প সমুদ্রপথ ব্যবহার করে পাঠানো হচ্ছে।”
পাশাপাশি ট্রাম্প আর মোদির বন্ধুত্বের কথা বলতে গিয়ে ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন না, তখনও দু’জনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। কিন্তু এক মাস আগেও আমেরিকার সঙ্গে একগুচ্ছ নীতি নিয়ে যখন সমস্যা হয়েছে ভারতের তখন কীভাবে নিজেদের ‘বন্ধুত্বকে’ দেখেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও।
