সরকারের তরফে বারবার মাওবাদীদের অস্ত্র ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর জন্য আর্থিক সহযোগিতা-সহ একাধিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এবার মাওবাদীদের অস্ত্র ছেড়ে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দিলেন এক মাও শীর্ষনেতা। তিনি তিপ্পিরি তিরুপতি ওরফে দেবজি। দেবুজি নামেও গেরিলা বাহিনীতে পরিচিত নাম। গত মাসেই তেলঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন দেবজি। ঠিক কী প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি?
সিপিআই (মাওবাদী) বর্তমানে দেশের একটি নিষিদ্ধ সংগঠন। ফলে তারা সরাসরি ভারতীয় রাজনীতিতে অংশ নিতে পারে না। দেবজি চাইছেন, মাওবাদী সংগঠনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হোক। যার পরে তারা নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন। যদিও নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী) নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পক্ষে নয়। সংবাদসংস্থা পিটিআই দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেবজি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী (রেবন্ত রেড্ডি)-কে আমি অনুরোধ করেছিলাম (নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে)। তিনি আমার কথা শুনেছেন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন।” এই কারণেই মাওবাদীদের অস্ত্র ছেড়ে বৈধ রাজনৈতিক পথে ফেরার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
গত এক থেকে দেড় বছরে মাওবাদী অধ্যুষিত সবকটি রাজ্যে ভয়ংকর অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এর ফলে হয় নিহত হয়েছেন গেরিলা বাহিনীর সদস্য়রা, অথবা কোণঠাসা হয়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন। এই অবস্থায় আত্মসমর্পণ করা মাওবাদী নেতার এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ‘লাল সন্ত্রাস’কে দেশ থেকে নির্মূল করতে ৩১ মার্চের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সময়সীমা থেকে একচুলও নড়ছে না কেন্দ্র। মাঝে অসমে সিআরপিএফের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সে কথা স্পষ্ট করে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জানিয়ে দেন, ওই ডেডলাইনের মধ্যেই দেশ থেকে মাওবাদকে সম্পূর্ণ নিকেশ করা হবে।
