ভোটে জিতে একটানা (১২ বছর) প্রধানমন্ত্রীত্বে রেকর্ড গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই নিরিখে জওহরলাল নেহরুকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন তিনি। যদিও নেহরুর সঙ্গে মোদির তুলনা একেবারেই পছন্দ হয়নি ভারতীয় রাজনীতির বর্ষীয়ান মুখ এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ারের। তাঁর সাফ কথা, মোদি কেন, নেহরুর সঙ্গে কারও তুলনা চলে না। বিজেপি নেতারা আসলে দেশের প্রতি নেহরু ও গান্ধী পরিবারের অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করছেন।
বুধবার মুম্বইয়ে ছিল এনসিপির ২৭তম প্রতিষ্ঠা দিবসে অনুষ্ঠানে। সেখানে ভাষণে পওয়ার মনে করান, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও দেশ গঠনে নেহরুর ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। সমসাময়িক কোনও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গেই তাঁর তুলনা করা যায় না। তিনি বলেন, "স্বাধীনতা সংগ্রাম ও দেশ গঠনে নেহরুর অবদান ভোলা অসম্ভব। তাঁকে সম্মান করা উচিত আমাদের।" যোগ করেন, "তাঁর সঙ্গে কারও তুলনা চলে না। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় নেহরু বেশ কয়েক বছর কারাগারে কাটিয়েছিলেন।"
এখানেই না থেমে এনসিপি প্রধান বলেন, মোদি একটানা প্রধানমন্ত্রীত্বের একটা রেকর্ড গড়েছেন। কিন্তু তাঁকে সবার উপরে বসিয়ে মসিহা বানানোর চেষ্টা হচ্ছে। পওয়ার বলেন, "বিষয়টি (মোদির রেকর্ড) ভালো। সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী একটি সাংবিধানিক পদ এবং আমাদের তা সম্মানও করা উচিত। তবে নেহরু তো নেহরুই। ভারতবাসী তাঁর আত্মত্যাগের কথা কিছুতেই ভুলতে পারে না।"
প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হয় দেশ। গভীর ডামাডোলের মধ্যে মসনদে বসেন নেহরু। এরপর ১৯৫১ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে স্বাধীন ভারতে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবার ভোটে জিতে কুরসতিতে বসেন নেহরু। সেই থেকে আমৃত্যু একটানা ৪,৩৯৮ দিন তিনিই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বভার সামলেছিলেন। কিন্তু ১০ জুন, বুধবার তাঁর সেই রেকর্ড ভাঙলেন মোদি। বর্তমানে একটানা ৪,৩৯৯ দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করছেন মোদি। ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন মোদি। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি ইন্দিরা গান্ধীর ৪,০৭৭ দিনের একটানা প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড ভেঙেছিলেন। তবে এখানে বলে রাখা ভালো, ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদের প্রধানমন্ত্রীর নিরিখে এখনও শীর্ষে রয়েছেন নেহরুই। তাঁর কার্যকাল ১৬ বছর ২৮৬ দিন। এরপর রয়েছেন ইন্দিরা। তাঁর কার্যকাল ১৫ বছর ৩৫০দিন।
