একটানা ভারতের ‘দীর্ঘতম’ সময়ের প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার এই নতুন নজির গড়ার পর এনডিএর সম্মেলনে কংগ্রেসকে তুলোধোন করলেন তিনি। জানালেন, ২০১৪ সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছিলেন তখন দেশ কংগ্রেসের কোটি টাকার দুর্নীতির পাঁকে নিমজ্জিত। কিন্তু আজকের ভারত সেই দুর্নীতি থেকে একেবারে মুক্ত। প্রধানমন্ত্রী জানালেন, ১৪০ কোটি মানুষের প্রত্যাশাপূরণে প্রাণপণ চেষ্টা করছে তাঁর সরকার।
এদিন নিজের বক্তৃতার শুরুতেই সরাসরি কংগ্রেসকে নিশানা করেন মোদি। জানালেন, গত ১২ বছরে তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্য এটাই যে কংগ্রেস জমানার দুর্নীতির নাগপাশ থেকে ভারতকে মুক্ত করা গিয়েছে। তিনি বলেন, "দুর্নীতির একটা সিস্টেম গড়ে তুলেছিল কংগ্রেস। জালের মতো ছড়িয়েছিল এই সিস্টেম। দেশকে অসহায়তার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। কিন্তু সেই দুর্নীতি পেরিয়ে দেশের প্রত্যেকটি মানুষ বিকশিত ভারতের স্বপ্ন দেখছে। এটা কোনও একজন ব্যক্তির স্বপ্ন নয়, গোটা দেশের স্বপ্ন। প্রত্যেকটা মুহূর্ত এই স্বপ্নপূরণের জন্য কাজ করা উচিত।"
কংগ্রেস জমানায় যেসব মানুষ দারিদ্রের শিকার ছিলেন, তাঁদের আর্থিক উন্নতি হয়েছে বলেও এদিন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, "যাঁরা দরিদ্র ছিলেন, এখন নতুন মধ্যবিত্ত হয়েছেন, তাঁদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হতে দেব না আমরা। তাই দিনরাত এক করে সরকারের কাজ করা উচিত। ১৪০ কোটি মানুষ আমাদের উপর যে প্রত্যাশা রেখেছেন, সেটা পূরণ করতে হবে। ভারতের যুবসমাজ, মহিলা, মধ্যবিত্ত, কৃষকদের আশা বুঝতে হবে।" মোদি মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোভিড অতিমারীর ধাক্কা সত্ত্বেও বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলির মতো ভারতের অর্থনীতি ভেঙে পড়েনি। বরং গত অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড এখনও রয়েছে জওহরলাল নেহরুর দখলে। তবে নির্বাচিত হয়ে একটানা সবচেয়ে বেশি সময়ের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকার নতুন নজির এদিন গড়েছেন মোদি। ৪,৩৯৯ দিনের জন্য একটানা প্রধানমন্ত্রী থেকেছেন মোদি। এই বিশেষ নজির গড়ার পর মোদি বার্তা দেন, 'বিনয়ী রাজাই সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হন।' এবার অবশ্য কংগ্রেসকে আক্রমণ শানালেন স্বভাবোচিত ভঙ্গিতে।
