কথায় বলে, 'কপালের নাম গোপাল'। অতর্কিতে সেই গোপালেরই সাক্ষাৎ পেলেন উত্তরপ্রদেশের এক কৃষক। ভাগ্য সহায় হতেই সাধারণ চাষি থেকে রাতারাতি হয়ে উঠলেন কোটিপতি। স্বপ্ন পূরণে কিনে ফেললেন আস্ত হেলিকপ্টার। শুধু তাই নয়, নিজের কেনা হেলিকপ্টারে থাইল্যান্ড বেড়াতে যাচ্ছেন ওই কৃষক।
রাতারাতি ভাগ্যবদলের এই ছবিই উঠে এসেছে উত্তরপ্রদেশের নয়ডা থেকে। সম্প্রতি নয়ডায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বিমানবন্দর তৈরির জন্য বিপুল অর্থের বিনিময়ে জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার। যার জেরে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গিয়েছেন এখানকার কৃষকরা। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কৃষকের নাম না নিলেও স্থানীয় ঠিকাদার শিবম প্রজাপতি বলেন, এখানেই অনেকখানি জমি ছিল এক কৃষকের। জমির বিনিময়ে তিনি সরকারের কাছ থেকে ১৫ কোটি টাকা পেয়েছেন। টাকা হাতে পেয়ে তিনি আস্ত একটি হেলিকপ্টার কিনে নিয়েছেন। আগামী মাসে বন্ধুদের সঙ্গে ওই কপ্টারে চেপে থাইল্যান্ড বেড়াতে যাবেন কৃষক।
বনবাসি বাস নামে ২৬ বছর বয়সি এক কৃষকেরও জমি ছিল ওখানে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, জমির বিনিময়ে কয়েক কোটি টাকা পেয়েছেন তিনিও। এই পুরো টাকা পরিবারের ভালোর জন্য ব্যবহার করবেন। ঠিকাদার শিবম প্রজাপতিও জানান, এখানে বিমানবন্দর তৈরি হওয়ায় আশেপাশে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে। আয় তাঁরও বেড়েছে। বিদেশে বেড়াতে যাবেন তিনিও। অন্য এক কৃষক বলেন, জমি সরকারকে দেওয়ার পর বর্তমানে ওই অঞ্চলেই শ্রমিকদের হেলমেট ও অন্যান্য জিনিস বিক্রির ব্যবসা শুরু করেছেন তিনি। সেখান থেকে মাসে ৬০ হাজার টাকার বেশি আয় হচ্ছে তাঁর।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ নয়ডা বিমান বন্দরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোট দুই দফায় এই বিমানবন্দর তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মোট ১১ হাজার ৭৪২ একর জায়গা-জুড়ে গড়ে উঠবে এই বিমানবন্দর। এখানে ৮৭ একর জায়গায় থাকবে কার্গো হাব। পাশপাশি ৪০ একর জায়গায় থাকবে মেরামত এবং অন্যান্য ব্যবস্থা। এটাই দেশের প্রথম বিমানবন্দর যেখানে নিজস্ব বিমান মেরামতের ব্যবস্থা থাকবে। বিমানবন্দর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, 'গোটা বিশ্বের সঙ্গে উত্তর ভারতকে যুক্ত করবে এই বিমানবন্দর। এই দুই মিনিট অন্তর ফ্লাইট ছাড়বে।' পিপিপি মডেলে বিমানবন্দরটি তৈরি করতে খরচ পড়ছে ১১২০০ কোটি টাকা।
