সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন পশুপ্রেমী প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধী। শীর্ষ আদালতে পথকুকুর সংক্রান্ত মামলা চলছে। আদালতের পর্যবেক্ষণের বিরোধিতা করে একটি পডকাস্টে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি। সেই সব মন্তব্য এবং মানেকার 'শরীরি ভাষা'র সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে চলছে পথকুকুর সংক্রান্ত মামলা। মামলা লড়ছেন মানেকা গান্ধীর আইনজীবীও।
মঙ্গলবারের শুনানিতে তাঁকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, যাঁরা পথকুকুরদের খাবার দেন, তাঁদেরকে পথকুকুরকে হামলার দায় নিতে হবে, মোটেই মজা করে এই মন্তব্য করা হয়নি। যদিও মেনকা ব্যঙ্গ করেছেন। তিন বিচারপতি বলেন, এটা আদালতের মহানুভবতা যে পর্যবেক্ষণের অবমাননা সত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মানেকার আইনজীবী রাজু রামচন্দ্রনকে আদালত বলে, "কিছুক্ষণ আগেই আপনি আদালতকে বলছিলেন যে আমাদের আরও সতর্ক থাকা উচিত। আপনি কি জানেন যে আপনার মক্কেল কী ধরণের মন্তব্য করছেন? আপনার মক্কেল আদালত অবমাননা করেছেন। আমরা কোনও ব্যবস্থা নিইনি। এটা আমাদের মহানুভবতা। আপনি ওর পডকাস্ট শুনেছেন? ওর শরীরি ভাষা দেখেছেন? তিনি কী বলেছেন এবং কীভাবে বলেছেন?" মানেকা গান্ধী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন, তিনি পশুপ্রেমীও! আদালতের প্রশ্ন, পথকুকুর সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর অবদান ঠিক কী?
আগের শুনানিতে কুকুরের কামড়ে মৃত্যু হলে মোটা অঙ্কের আর্থিক সাহায্যের ভাবনার কথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট! বিচারপতিদের বেঞ্চ জানিয়েছে, কুকুরের কামড়ে প্রতিটি মৃত্যুতে রাজ্য সরকার যাতে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকে, সেই সংক্রান্ত নির্দেশিকার কথা ভাবছে আদালত। জখম হলেও থাকবে ন্যূনতম আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা।
সেদিন বিচারপতিদের বেঞ্চ বলে, “কুকুরের কামড়ে শিশু বা বয়স্কদের মৃত্যু হলে বা জখম হলে রাজ্য কর্তৃক মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেব আমরা।” যারা রাস্তায় নিয়মিত কুকুরদের খাওয়ান কুকুরে কামড়ে মৃত্যু, জখমে তাঁদেরও দায় নিতে হবে, জানায় আদালত। সুপ্রিম বেঞ্চের বক্তব্য, কুকুরের খাবারদাতারাও দায়বদ্ধ। আপনারা বাড়িতে নিয়ে যান (কুকুরদের), নিজের কাছে রাখুন। কেন ওরা ঘুরে বেড়াবে, কামড়াবে, তাড়া করবে? কুকুরের কামড়ের প্রভাব আজীবন থেকে যায়।”
