তামিলনাড়ুর ভোটের মুখে বিরাট ধাক্কা খেল জয়ললিতার দল এআইএডিএমকে। একই সঙ্গে ধাক্কা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের। এবার এম কে স্ট্যালিনের হাত ধরে ডিএমকে-তে যোগ দিলেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পনিরসেলভম। ফলে ভোটের মুখে তামিলভূমে শক্তি আরও বাড়ল ইন্ডিয়া জোটের।
ই পালানিস্বামী, ও পনিরসেলভম, শশীকলা, টিটিভি দিনাকরণ। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এরা সকলেই পরিচিত নাম। জয়ললিতা জীবিত থাকাকালীন এরা প্রত্যেকেই এআইএডিএমকের হয়ে কাজ করতেন। জয়ললিতার মৃত্যুর পর নিজেদের মধ্যে বিবাদে এঁরা আলাদা হয়ে যান। আলাদা আলাদা রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে লড়াই করেন। যার ফলে সুবিধা পেয়ে যায় ডিএমকে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে সেটার পুনরাবৃত্তি রুখতে মরিয়া চেষ্টা করছিল বিজেপি। এআইএডিএমকের সব নেতাকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা করছিলেন খোদ অমিত শাহ। কিন্তু সেই চেষ্টায় জল ঢেলে দিলেন পনিরসেলভম।
আসলে দিনকয়েক আগেই টিটিভি দিনাকরণকে এনডিএ জোটে শামিল হয়েছেন। তারপর ডিএমকের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পালানিস্বামী সাফ জানিয়ে দেন, পনিরসেলভমকে তিনি দলে ফেরাবেন না। এই পনিরসেলভম এবং পালানিস্বামীর বিবাদ দীর্ঘদিনের। জয়ললিতা বেঁচে থাকাকালীন পনিরসেলভম তাঁর বেশি বিশ্বস্ত ছিলেন। জয়ললিতের আনুগত্যের পুরস্কার হিসাবেই ৩ বার অস্থায়ীভাবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পান তিনি। তবে পনিরসেলভমের তুলনায় পালানিস্বামীর জনভিত্তি বেশি। ফলে জয়ললিতার মৃত্যুর পর তিনিই দলের হোতা হয়ে যান। এবং পনিরসেলভমকে বহিষ্কার করেন। পনিরসেলভম আবার আদালতে গিয়ে দাবি করেন, তাঁর বহিষ্কার অবৈধ। দলের আসল প্রতীক তাঁরই প্রাপ্য। কিন্তু সেই মামলায় বিশেষ সুবিধা হয়নি।
পরে বাধ্য হয়ে আলাদা দল গড়েন পনিরসেলভম। তাঁর দল ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির সঙ্গে জোটেই লড়েছিল। কিন্তু তাতে বিশেষ সুবিধা হয়নি। তিনি নিজেও জিততে পারেননি। এবার বিজেপি চাইছিল এআইএডিএমকের সব শ্রেণিকে একত্রিত করতে। কিন্তু তাতে ধাক্কা দিয়ে স্ট্যালিনের হাত ধরে পনিরসেলভম যোগ দিলেন ডিএমকে-তে। তাঁর সাফ কথা, যে কোনও মূল্যে পনিরসেলভমকে হারাতে চান তিনি। সেকারণেই শক্তিশালী ডিএমকে-তে যোগদান।
