প্রাক্তন ইনফোসিস কর্তা নারায়ণমূর্তি বারংবার সাপ্তাহিক ৭০ ঘণ্টা কাজের নিদান দিয়েছেন তরুণদের। তাঁর দাবি, ''এই কথাটা আমি আমার কবরেও এই কথাটা নিয়ে যাব।” এমন মন্তব্যে বিস্তর বিতর্ক ঘনিয়েছিল। এবার ফের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে পরামর্শ দিলেন তিনি। এবার তিনি কথা বলেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। AI নিয়ে ভয় বাড়ছে, সে অচিরেই বহু মানুষের চাকরি খাবে। কিন্তু নারায়ণমূর্তির মতে, এই নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বরং সতর্ক থাকতে হবে। তাহলে বরং উপকৃতই হবে নতুন প্রজন্ম।
এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ''উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে আমার নিজস্ব পরীক্ষাগুলি থেকে দেখিয়েছি যে, এই সহায়ক প্রযুক্তিগুলি ব্যবহার করে কোনও বুদ্ধিমান মন আরও ভালো মানের এবং উন্নত স্তরের উৎপাদন-দক্ষতা অর্জন করতে পারে।'' তাঁর পরামর্শ, ''তরুণদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।'' নারায়ণমূর্তি বলছেন, তরুণদের কখনওই এআইকে শত্রু হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং একে একটা 'টুল' হিসেবে ভাবতে পারলেই কেল্লা ফতে। কঠোর শ্রম, নিয়মানুবর্তিতা, ক্রমান্বয়ে শিখে চলার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
প্রসঙ্গত, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে প্রযুক্তি। বর্তমান সময়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বিশ্বের তাবড় সংস্থাগুলি এআই’তে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। ফলে ক্রমশ কমছে কর্মসংস্থান। বাড়ছে কর্মী ছাঁটাই। সেই তালিকায় ফেসবুক, গুগল, মাইক্রোসফটের মতো জায়েন্ট তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাও আছে। বহু মানুষের কাজ কার্যত এআইকে ব্যবহার করেই সেরে ফেলছে সংস্থাগুলি। ফলে কাজের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। কাজের ক্ষেত্রে অনেকেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বিজ্ঞানের ‘অভিশাপ’ বলছেন। কিন্তু এবার নারায়ণমূর্তি কথা বললেন একেবারে ভিন্ন দিক নিয়ে।
সপ্তাহে কাজের পরিমাণ নিয়ে নারায়ণমূর্তির মন্তব্যে বিতর্ক ছড়িয়েছিল দেশজুড়ে। তিনি বলেন, জাতির উন্নতির জন্যই সবাইকে বেশি করে কাজ করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথাও বলেন নারায়ণমূর্তি। তাঁর কথায়, ”যেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি এত পরিশ্রম করেন, সেখানে নিজেদের উপলব্ধিকে প্রকাশ করার সেরা উপায়ই হল একই ভাবে পরিশ্রম করে যাওয়া।” এখন দেখার, এআই নিয়ে তাঁর মন্তব্যের কেমন প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়।
