দেশের রাজনীতিতে বৃদ্ধতন্ত্রের অবসানের পক্ষে সওয়াল কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নীতীন গড়করির (Nitin Gadkari)। রবিবার এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাঁর বার্তা, যদি সবকিছু ঠিকঠাক ও স্বাভাবিক ছন্দে এগোতে থাকে তবে প্রবীণদের উচিত জায়গা ছেড়ে দিয়ে নতুনদের সুযোগ করে দেওয়া। এই সময়ই অবসরের জন্য আদর্শ সময়। নীতীন নিজের অবসরের প্রসঙ্গ টানলেও, রাজনৈতিক মহলের দাবি, আসলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদ ছাড়ার পুরনো জল্পনা ফের উসকে দিলেন এই বার্তায়।
রবিবার নাগপুরে এক শিল্প উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এই উৎসবের আয়োজক ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্টের সভাপতি আশিস কালে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নীতীন বলেন, "বিশেষ এই উদ্যোগে দেশের তরুণ প্রজন্ম সক্রিয়ভাবে যুক্ত। আশিসের বাবা আমার অনেকদিনের বন্ধু। আমি বিশ্বাস করি এখন আমাদের ধীরে ধীরে অবসর নেওয়া উচিত। এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা উচিত।" একইসঙ্গে গড়করি বলেন, "যখন একটি ব্যবস্থা সুচারুভাবে চলতে থাকবে তখনই অবসরের জন্য আদর্শ সময়।"
নীতীনের মুখে নিজের অবসরের এই মন্তব্য সাধারণ মনে হলেও, এর নেপথ্যে গূঢ় তত্ত্ব খুঁজছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের মতে, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সুরে সুর মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অবসরের বার্তা দিলেন নীতীন। গত বছর এই অবসর প্রসঙ্গে ভাগবত বলেছিলেন, 'বয়স ৭৫ হলে থেমে যাওয়া উচিত'। সংঘ ও বিজেপির অলিখিত এই নিয়ম মেনেই একটা সময় অবসরে পাঠানো হয়েছিল, লালকৃষ্ণ আডবানি, মুরলি মনোহর জোশী, যশবন্ত সিংদের। তাঁদের 'মার্গদর্শক মণ্ডলী'তে পাঠানোর মূল কারিগর ছিলেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা।
এদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বরেই ৭৫ পূর্ণ করেছেন মোদি। সেপ্টেম্বরেই ৭৫ পূর্ণ করেছেন ভাগবত। শোনা যাচ্ছে, তিনি আর আরএসএস প্রধানের পদে থাকতে চান না বলে ব্যক্তিগত মহলে জানিয়েছেন। তবে মোদির ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। তাঁর অবসরের যাবতীয় জল্পনা খারিজ হয়েছে। এই ডামাডোলের মাঝেই বয়স ও অবসরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তবে কি মোদিকেই বার্তা দিলেন নীতীন গড়করি!
