সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের তকমা ফেরানো নিয়ে ফের বিস্ফোরক ওমর আব্দুল্লাহ। এবার মিম পোস্ট করে নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হ্যারি পটারের সিনেমা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে যে তিনি পোস্ট করেছেন, সেটার মূল বক্তব্য, 'আমি আর সহ্য করতে পারছি না।'
আসলে এদিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, অমিত শাহ সংসদে যে জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন আইনের সংশোধনী বিল পেশ করতে চলেছেন, তাতে কাশ্মীরের পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর প্রস্তাব থাকতে পারে। কিন্তু সেটা যে নিছক গুঞ্জন সেটা বুঝতে বাকি ছিল না ওমরের। সেকারণেই ঘুরপথে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করতেই ওই মিম পোস্ট কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর। তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের অপসারণ সংক্রান্ত যে বিল অমিত শাহ বুধবার পেশ করেছেন, সেটাও না পসন্দ ওমরের।
৫ আগস্ট, ২০১৯ থেকেই রাজ্যের মর্যাদা নিয়ে বিতর্ক চলছে। সেই সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। ৩৭০ ধারার মধ্যমে এই অঞ্চল তার নিজস্ব সংবিধান, পতাকা এবং প্রতিরক্ষা, বিদেশ এবং যোগাযোগ ছাড়াও বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ পেত।
সেই সময়ে জম্মু-কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসন থাকায়, ২৭২ এবং ২৭৩ নম্বর সাংবিধানিক আদেশ জারি করে ৩৭০ ধারা বাতিল করে। এর পরে জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন, ২০১৯ জারি করা হয়। এর মাধ্যমে রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়। জম্মু ও কাশ্মীরকে বিধানসভা-সহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করা হয়, আর লাদাখকে বিধানসভা ছাড়া। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টে ৩৭০ ধারা বাতিল মান্যতা পেলেও দ্রুত রাজ্যের মর্যাদা ফেরানো নিয়ে কেন্দ্রের কাছে নির্দিষ্ট সময়সীমা চায় শীর্ষ আদালত।
কেন্দ্রীয় সরকার বার বার রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর কথা বললেও, কোনও ডেডলাইন এখনও জানাতে পারেনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন ২০২৪ সালে এখানে নির্বাচন করায়। উপত্যকার বেশ কয়েকটি দল রাজ্যের মর্যাদার জন্য চাপ দিয়েছেন কেন্দ্রের উপর। গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ন্যাশনাল কনফারেন্স-কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় আসে এবং দ্রুত রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবি জানায়।
রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। মাঝে পহেলগাঁও হামলার পরে এই দাবি পিছনের সারিতে চলে গিয়েছিল। এবার এই লড়াই ফের উসকে দিয়েছেন তিনি। এবার ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহের কথা ঘোষণা করেছেন আবদুল্লা। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ২০টি জেলাতেই এই অভিযান চালানো হবে।
