সমস্ত নিয়ম মেনে প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সংখ্যক সাংসদের সই রয়েছে। তবু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি সংসদের সচিবালয়। দু'সপ্তাহ হয়ে গিয়েছে অথচ সিদ্ধান্তই নাকি নেওয়া হয়নি! যা নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেস।
নোটিস গৃহীত না খারিজ, তা নিয়ে সংসদীয় সচিবালয়ের তরফে বিরোধীদের এখনও কিছু জানানো হয়নি। সূত্রের খবর, এতে ক্ষুব্ধ তৃণমূল। ঘনিষ্ঠ মহলে তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন বলছেন, বিজেপি–র নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের খুল্লমখুল্লা আঁতাঁত পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। আমাদের নোটিসে যদি কোনও ভুল থাকে তাহলে সেটাও আমাদের জানানো হোক।" তৃণমূলের অভিযোগ, সরকার চাইছে নীরবে অধিবেশন শেষ করে দিতে। যাতে বিষয়টা চাপা পড়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব জমা দেয় বিরোধীরা। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমার পক্ষপাতদুষ্ট-বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন। সংসদে জমা দেওয়া নোটিসে তাঁর বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক আচরণ’, ‘নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃত বাধা সৃষ্টি’ ও এসআইআর-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ।
নিয়ম অনুযায়ী, ওই প্রস্তাব সংসদের দুই কক্ষেই জমা দিয়েছে বিরোধীরা। এরপর স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ওই প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রস্তাব গৃহীত হলে ৩ সদস্যের কমিটি গঠিত হবে। সেই কমিটি ছাড়পত্র দিলে সেটি সংসদে পেশ করা হবে এবং তা নিয়ে আলোচনা হবে। বিতর্কের পর সেই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হবে। ফলে জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া দীর্ঘ।
