পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরিভিত্তিতে ভারতের সাহায্য চেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ফের বাংলাদেশকে ডিজেল পাঠাল ভারত। সম্প্রতি ঢাকাকে ৫০০০ মেট্রিক টন ডিজেল সাপ্লাই করা হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন দিল্লির এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের তরফেও জানানো হয়েছে ভারতের পাঠানো ৫০০০ মেট্রিক টন ডিজেল পেয়ে গিয়েছেন তারা।
রিপোর্ট বলছে, নতুন করে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৫০০০ লিটার ডিজেল রপ্তানির জেরে এই সংকটের বাজারে ভারত তার প্রতিবেশীকে মোট ১৫০০০ মেট্রিক টন ডিজেল পাঠালো। এখানেই শেষ নয় জানা যাচ্ছে, আগামী ২৮ মার্চ ৬০০০ টন অতিরিক্ত ডিজেল পাঠানোর জন্য পাম্পিং প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ভারতের লক্ষ্য আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে সরবরাহ করা। এই জ্বালানি তেল যাবে অসমের নুমালিগড় তেল সংশোধনাগার থেকে। পাইপলাইনের মাধ্যমে যাবে এই ডিজেল।
নতুন করে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৫০০০ লিটার ডিজেল রপ্তানির জেরে এই সংকটের বাজারে ভারত তার প্রতিবেশীকে মোট ১৫০০০ মেট্রিক টন ডিজেল পাঠালো।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত অসমের এই সংশোধনাগার থেকে ১.৮০ লক্ষ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির চুক্তি ছিল বাংলাদেশের। তবে ইউনুস জমানায় দুই দেশের কূটনৈতিক সংঘাত সেই চুক্তিতে দাঁড়ি টানে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সমস্তরকম তেল সরবরাহ। তবে নয়া সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। বিএনপির তারেক সরকারের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে তেল সংকটে যুঝতে থাকা বাংলাদেশকে সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব গুরুতর আকার নিয়েছে বাংলাদেশে। তেল সংকটের মোকাবিলায় সে দেশে বাইকে ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার করে তেল দেওয়ার নিয়ম চালু হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বন্ধ করার পাশাপাশি আগাম ইদের ছুটি ঘোষণা হয়েছে। গ্যাসের কালোবাজারি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ২-৩ গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে রান্নার গ্যাস। তেলের পাম্পগুলিতে দেখা গিয়েছে দীর্ঘ লাইন।
