মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদের দুই কক্ষ, লোকসভা ও রাজ্যসভায় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব জমা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই প্রস্তাবে সায় দিয়েছে কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের অন্য শরিকরাও। সেই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া এবার অনেকটাই এগোল। ইতিমধ্যেই ওই প্রস্তাবের পক্ষে সই সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন। বিরোধী শিবিরের এই পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ।
সূত্রের খবর, এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী শিবিরের একাধিক দলকে এক ছাতার তলায় এনে প্রস্তাব জমা দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বই। ইতিমধ্যেই লোকসভায় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের খসড়ায় প্রয়োজনীয় ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষরের থেকে অনেক বেশি, প্রায় ১৩০ জনেরও বেশি সাংসদ সই করেছেন বলে। রাজ্যসভার ক্ষেত্রেও একই ছবি। সেখানে প্রয়োজনীয় ৫০ জন সাংসদের বদলে ৬০ জনেরও বেশি সাংসদ ইতিমধ্যেই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন বলে সূত্রের দাবি। যদিও লোকসভা ও রাজ্যসভায় জমা পড়া প্রস্তাবের খসড়ার ভাষা আলাদা হতে পারে।
লোকসভায় সাংসদদের স্বাক্ষর সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের উপ-দলনেতা শতাব্দী রায়কে। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই তিনি স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বাজেট অধিবেশনের প্রথম ভাগ থেকেই বেশি সংখ্যক সাংসদের সমর্থন জোগাড় করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তিনি। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্ডিয়া জোটের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন চাওয়া হয়নি। তবে শতাব্দীর উদ্যোগে লোকসভার কয়েকজন নির্দল সাংসদও প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। অন্যদিকে রাজ্যসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক বিরোধী সাংসদদের সমর্থন জোগাড়ে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন।
সই সংগ্রহের কাজ সারা হলে ওই প্রস্তাব সংসদের দুই কক্ষেই জমা দেবে বিরোধীরা। এরপর স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ওই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। আলোচনার অনুমতি মিললে, বিতর্কের পর সেই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হবে। ফলে জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া দীর্ঘ। এবং তাতে বহু সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। তবে আপাতত প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ বিরোধী শিবির।
