মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি কি থলপতি বিজয়ের কপালে নেই? তামিলনাড়ুতে অচলাবস্থা কেটেও যেন কাটল না। শনিবারও বিজয়ের শপথের অনুমতি দিলেন না রাজ্যপাল আরলেকর। তিনি এখনও নিশ্চিত নন যে বিজয়ের হাতে ১১৮ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। ফলে শনিবার যে শপথগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল সেটা হচ্ছে না।
বিজয়কে কংগ্রেস আগেই সমর্থন ঘোষণা করেছে। শুক্রবার দুই বাম দলও সমর্থন নিশ্চিত করায় জোসেফ বিজয়ের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তামিলনাড়র রাজ্যপাল বিজয়কে শপথ নিতে ডেকেও দিয়েছিলেন। কিন্তু রাতে আচমকা সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নেয় আইইউএমএল এবং এএমএমকে। ফলে রাজ্যপাল বিজয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি। সেকারণে বেশি রাতে তিনি শনিবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বাতিল করেন। ২৩৪ আসনবিশিষ্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় ১১৮ এমএলএ-র সমর্থন নিশ্চিত হওয়ার পর বিজয় শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন। রাজ্যপাল আরলেকর তাঁকে সরকার গড়ার আমন্ত্রণ জানান। শনিবার সকালেই বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণের কথা ছিল।
বিজয়ের রাজভবন যাত্রার পর রাস্তায় নেমে তাঁর অনুগামী, ভক্ত, দলীয় কর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। কিন্তু রাতেই ছবিটা বদলে যায়। আবারও বিজয় শিবিরে টেনশনের চোরাস্ত্রোত। সদ্য হওয়া বিধানসভা ভোটে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও বিজয়ের টিভিকের দরকার ছিল আরও ১০টি আসন। টিভিকে ডিএমকে জোটের শরিক দুই বাম দল, ভিসিকে সমর্থনের ডাক দেয়। তিন দলেরই ২ জন করে বিধায়ক। সিপিআই, সিপিএম সরকারিভাবে বিবৃতি দিয়ে বিজয়কে নিঃশর্ত সমর্থন ঘোষণা করে। তারা বাইরে থেকে সমর্থন করবে, মন্ত্রিত্ব নেবে না। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বিজয় দুই বাম দলের দপ্তরে গিয়ে ধন্যবাদ জানান। তবে বামেরা জানিয়ে দিয়েছে, বিজয়কে সমর্থন করলেও রাজ্যের অধিকার ও ফেডারেল নীতির প্রশ্নে ডিএমকের প্রতি তাদের সমর্থন বহাল থাকবে। ভিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন ঘোষণা না করলেও শেষ পর্যন্ত বিজয়ের সঙ্গেই থাকবে বলে খবর।
সূত্রের খবর, ডিএমকে ও এআইডিএমকে জোট বেঁধে তামিলনাড়ুতে ফের দ্রাবিড় দলের সরকার গঠনের চেষ্টায় উদ্যোগী হয়েছে। যা বিজয় শিবিরে উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে শুরু হয়েছে রিসোর্ট পলিটিক্সও। কংগ্রেস নিজেদের পাঁচ বিধায়ককে নিরাপদে রাখতে বেঙ্গালুরুতে পাঠিয়ে দিয়েছে বলে খবর। শুক্রবার রাতেই পাঁচ কংগ্রেস বিধায়ক চলে যান কর্নাটকের রাজধানীতে।
