পাকিস্তান থেকে উড়ে আসা বেলুনের খোঁজ মিলল জম্মু-কাশ্মীরে। রাস্তায় পড়ে থাকা সেই বেলুনে সাঁটানো রয়েছে পাকিস্তানি নোট। তার সঙ্গে রয়েছে একটি ফোন নম্বর এবং স্ক্যানার কোডও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল জম্মু-কাশ্মীরের আখনুর জেলার খৌর থানা এলাকায়।
নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে খবর, বেলুনে যে মোবাইল নম্বরটি লেখা রয়েছে, সেটি পাকিস্তানি নম্বর। তবে শুধু পাকিস্তানি নোটই নয়, আমেরিকারও নোটও মিলেছে। দু'টি বেলুন রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়েরাই পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে সেগুলি নিয়ে গিয়েছে। কী কারণে উপত্যকায় এই বেলুন পাঠানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
গত কয়েক দিন ধরেই কাশ্মীরে জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী। রবিবার জম্মুর কিস্তওয়ার জেলার চাতরু বেল্টের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি নিহতও হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর অনুমান, এই পরিস্থিতিতে উপত্যকায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের সাহায্য করতেই সীমান্তের ওপার থেকে বেলুন উড়িয়ে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করছে জঙ্গি সংগঠনগুলি।
উদ্ধার হওয়া সেই বেলুন।
প্রসঙ্গত, রবিবার যে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে, তারা কিস্তওয়ারের পাসারকুট এলাকার একটি মাটির বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ তল্লাশি অভিযান শুরু হলে তারা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। শুরু হয় দু’পক্ষের গুলিযুদ্ধ। বাহিনীর সামনের সারিতে ছিল সেনার কুকুর ‘টাইসন’। জঙ্গিদের গুলি তার পায়ে লাগে। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, মারাত্মক জখম অবস্থাতেও সে জঙ্গিদের গোপন ডেরার সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করে দিয়েছিল। টাইসনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পাল্টা হামলা চালিয়ে সফল হয়।
প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, নিহতদের মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনটির ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ কমান্ডার সইফুল্লাও থাকতে পারে। সে গত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলে গা ঢাকা দিয়ে ছিল এবং আগের কয়েকটি অভিযানে সেনার চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক একে-৪৭ রাইফেল ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। অভিযানে জখম হয়েছে সেনার এক কুকুর।
