shono
Advertisement
Akhilesh Yadav

বাঁকিপুর মডেলে বিজেপির উচ্চবর্ণ ভোটব্যাঙ্কে থাবা! পিডিএ-র নয়া ব্যাখ্যায় ব্রাহ্মণ ‘তাস’ অখিলেশের

বুধবার লখনউয়ে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন অখিলেশ। সেখানে তিনি বলেন, "পিডিএ-কে শুধু পিছড়া, দলিত ও সংখ্যালঘুদের জোট হিসাবে দেখার প্রয়োজন নেই। পণ্ডিত বা ব্রাহ্মণরাও এই জোটের অংশ।"
Published By: Subhodeep MullickPosted: 02:02 PM Aug 06, 2026Updated: 04:01 PM Aug 06, 2026

আগামী বছরই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সে রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর ইঙ্গিত দিলেন সমাজবাদী পার্টি (সপা)-র প্রধান অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)। এতদিন 'পিছড়া-দলিত-সংখ্যালঘু' (পিডিএ) ফর্মুলাকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বললেও এবার ব্রাহ্মণদের উদ্দেশেও স্পষ্ট বার্তা দিলেন তিনি। অখিলেশের কথায়, "পিডিএ-র পিডি-র অর্থ পণ্ডিত।" রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিহারের বাঁকিপুর মডেলের কায়দায় বিজেপির উচ্চবর্ণ ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতেই এই কৌশল অখিলেশের।

Advertisement

বুধবার লখনউয়ে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন অখিলেশ। সেখানে তিনি বলেন, "পিডিএ-কে শুধু পিছড়া, দলিত ও সংখ্যালঘুদের জোট হিসাবে দেখার প্রয়োজন নেই। পণ্ডিত বা ব্রাহ্মণরাও এই জোটের অংশ।" তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বার্তার লক্ষ্য হল বিজেপির দীর্ঘদিনের উচ্চবর্ণ ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানো। আসলে উত্তরপ্রদেশে ব্রাহ্মণ ভোটের বড় অংশ গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপির সঙ্গেই থেকেছে। কিন্তু ২০২৭-এর বিধানসভা ভোটের আগে সেই সমীকরণেই ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছেন সপা প্রধান। ইতিমধ্যেই অখিলেশরা ব্লক স্তরে ‘পিডিএ’ সম্মেলন শুরু করেছেন। সেই সঙ্গেই এবার তাঁদের লক্ষ্য হল উচ্চবর্ণ বা ব্রাহ্মণ ভোটারদের নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করা।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বিহারের সাম্প্রতিক বাঁকিপুর উপনির্বাচনের ফলাফল বিশেষ নজর কেড়েছে। দীর্ঘদিন বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ওই কেন্দ্রে এবার পর্যদুস্ত হয়েছে গেরুয়া শিবির। চমক দিয়েছেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের ছেড়ে যাওয়া আসনে পিকে জিতেছেন ১৮ হাজার ৯৫৩ ভোটে।

১৯৯৫ সাল থেকে এখানে হারেনি বিজেপি। সেই সময় অবশ্য ওই কেন্দ্রের নাম ছিল পাটনা পশ্চিম। নীতীন বাবা কিশোর প্রসাদ সিনহা ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত একাধিকবার এই কেন্দ্রের বিধায়ক হন। তাঁর মৃত্যুর পর ২০০৬ সালে উপনির্বাচনে এখানে জয়ী হয়েছিলেন নীতীন। তার পর থেকে নীতীন ও বাঁকিপুর ছিল কার্যত সমার্থক শব্দ। এই অবস্থায় বিজেপির বাঁকিপুর হারানো রাজনৈতিক মহলে নতুন চর্চা সৃষ্টি করেছে। বাঁকিপুরে গেরুয়া শিবিরের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হল বিজেপির উচ্চবর্ণ ভোটব্যাঙ্কে ধস। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রশ্ন উঠছে, উত্তরপ্রদেশেও কি বাঁকিপুর মডেল অনুসরণ করছেন অখিলেশ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উত্তরপ্রদেশে ব্রাহ্মণদের একটি অংশের মধ্যে বিজেপির প্রতি অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেই ক্ষোভ সামনেও এসেছে। আর সেই অসন্তোষকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন অখিলেশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement