নিট কারচুপির প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে টানা ১৭ দিন ধরে অনশন করছেন শিক্ষাবিদ তথা পরিবেশপ্রেমী সোনম ওয়াংচুক। দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বার্তা দিলেন সোনম। এক সাক্ষাৎকারে জনালেন, একগুয়ে মানসিকতা ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর উচিত জনগণের কথা শোনা। একইসঙ্গে আক্ষেপের সুরে তাঁর বার্তা, 'দেশে এখন সততার কোনও দাম নেই। প্রশ্নপত্র থেকে নির্বাচন সবকিছুই বিক্রি হচ্ছে।'
অনশনরত সোনমকে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তরফে প্রশ্ন করা হয়েছিল নরেন্দ্র মোদির সরকারের তরফে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাঁর সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করা হয়েছে? উত্তরে সোনম বলেন, "এখনও পর্যন্ত এমন কিছু ঘটেনি। তবে আমাদের প্রতিবাদ আরও জোরাল হবে যাতে সরকারের কানে আমাদের দাবি পৌঁছয়। যদি কোনও পদক্ষেপ না হয় তবে শুধু সরকার নয়, দেশের সেইসব ব্যক্তি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও দায়ী থাকবেন, যারা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গা ছাড়া মানসিকতা দেখাচ্ছেন। মানুষ যদি বাড়ি থেকে বেরিয়ে আওয়াজ তোলেন, তবেই সরকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হবেন। তবে আমরা বিশ্বাস করি, সরকার এতটা অসংবেদনশীল নয়, তারা অবশ্যই এর সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবেন।''
'প্রধানমন্ত্রীর উচিত তাঁর একগুঁয়ে মনোভাব ত্যাগ করে সংবেদনশীল হওয়া। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে জনগণের কথা শুনলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারেরই লাভ হবে', বার্তা সোনমের।
একজন ব্যক্তির পদত্যাগের মাধ্যমে কী পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যাপক সংস্কার সম্ভব? এ প্রশ্নের উত্তরে সোনম বলেন, "তা হয়ত সম্ভব নয়, কিন্তু অবশ্যই জবাবদিহিতার পথ প্রশস্ত হবে। সরকারের যদি জবাব না দেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয় তাহলে স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের এই চক্র চলতেই থাকবে। এটি কেবল শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য নয়, গোটা দেশের জন্য কলঙ্কজনক। প্রশ্ন ফাঁস হলে ভুয়ো ডাক্তাররা আপনার সন্তানের চিকিৎসা করবে, ভুয়ো ইঞ্জিনিয়র আপনার বাড়ি বানাবে যা ভেঙে মানুষ মরবে।"
শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক কারচুপির পরও সরকারের নীরবতায় ক্ষুব্ধ সোনম বলেন, "দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থেই জনগণের কথা শোনা সরকারের উচিত। কঠোর মানসিকতা ছেড়ে তাদের সংবেদনশীল হওয়া উচিত। গণতন্ত্র সহানুভূতি ও সহমর্মিতার ওপর চলে, একগুঁয়েমির ওপর নয়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর উচিত তাঁর একগুঁয়ে মনোভাব ত্যাগ করে সংবেদনশীল হওয়া। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে জনগণের কথা শুনলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারেরই লাভ হবে।" সোনম আরও বলেন, "আজ দেশে সততার কোনও মূল্য নেই। সবকিছুই অসততার উপর ভিত্তি করে চলছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে শুরু করে নির্বাচন পর্যন্ত সবকিছুই বিক্রি হচ্ছে। অবিলম্বে এটা বন্ধ হওয়া দরকার।"
উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টির পাশে দাঁড়িয়ে গত ১৭ দিন ধরে অনশন করছেন সোনম ওয়াংচুক। এতদিনে সরকারের তরফে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি তাঁর সঙ্গে। বিরোধী দল মৌখিকভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ালেও বড় কোনও নেতাকে অনশন মঞ্চের কাছে দেখা যায়নি। খোঁজ নেই কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গেদের। এদিকে আবার ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের কাউকেই অনশনে বসতে দেখা যায়নি। বরং তাঁর পাশে বসে খেতে দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কার্যত একার লড়াই শুরু করেছেন তিনি। যার জেরেই এবার দেশের বিরোধীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ফুটে উঠল সোনমের গলায়।
