জম্মু-কাশ্মীরে আবার জঙ্গিদের নিশানায় পণ্ডিতেরা। উপত্যকার জায়গায় জায়গায় পড়ল হুমকি পোস্টার। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে নিরাপত্তাবাহিনীও।
গত শতকের নয়ের দশকের প্রথম দিকে উপত্যকায় কাশ্মীরি পণ্ডিত বিতাড়ন শুরু হয়েছিল। খুন হয়েছিলেন বহু পণ্ডিত। প্রাণ ভয়ে অনেককে ঘরবাড়ি ছেড়ে দেশের অন্যত্র পালাতে হয়েছিল। সেই সময় যাঁরা উপত্যকায় থেকে গিয়েছিলেন, তাঁদেরই প্রতিনিধিত্ব করে কাশ্মীরি পণ্ডিত সংঘর্ষ সমিতি (কেপিএসএস)। তারা উপত্যকায় পণ্ডিতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, উপত্যকায় এই মুহূর্তে যে শান্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরণ রয়েছে, তা নষ্ট করতেই এই ধরনের হুমকি পোস্টার ফেলা হচ্ছে জায়গায় জায়গায়।
গত কয়েক মাস ধরেই উপত্যকায় জঙ্গিদের খোঁজে লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী। তাদের অভিযানে বেশ কয়েক জন জঙ্গি নিহতও হয়েছে। রবিবারও নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয় তিন জঙ্গি। অনেকের মত, জঙ্গিদমন অভিযান থেকে নিরাপত্তাবাহিনীর নজর ঘোরাতেই এই ধরনের পোস্টার সাঁটানো হচ্ছে। যাতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিরাপত্তাতেই বেশি মনোনিবেশ করে নিরাপত্তাবাহিনী। সেই সুযোগে উপত্যকা ছেড়ে পালাতে পারে জঙ্গিরা।
বছর চার-পাঁচেক আগেই উপত্যকায় বেশ কয়েকজন কাশ্মীরি পণ্ডিত খুন হন। তার পরেই জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু হয় উপত্যকায়। যাদের বিরুদ্ধে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের খুনের অভিযোগ উঠেছিল, তাদের প্রায় সকলকে নিকেশ করে নিরাপত্তাবাহিনী। তার পর এই প্রথম এই ধরনের হুমকির মুখে পড়ল পণ্ডিতেরা। যদিও উপত্যকায় যে সব হুমকি পোস্টার পড়েছে, সেগুলি জঙ্গিদেরই কাজ না কি নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য আছে, তা এখনও স্পষ্ট ভাবে জানায়নি নিরাপত্তাবাহিনী।
