সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এখনও সম্পূর্ণ তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়নি। ফলে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি এবং তথ্যগত অসঙ্গতি কত, সেই তালিকা তৈরি করা হয়নি। এদিকে সুপ্রিম নির্দেশ মেনে নথি যাচাইয়ের জন্য প্রতি জেলায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছে হাই কোর্ট। কিন্তু সার্ভার সমস্যায় এখনও পর্যন্ত এই কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের আইডি তৈরি করতে পারেনি কমিশন। তবে সোমবার সেই আইডি চলে আসবে বলেই দাবি। অন্যদিকে ভোটের কাজে বাহিনী মোতায়েন নিয়ে সোমবারই বৈঠকে বসছে কমিশন। তার আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের স্পষ্ট বার্তা, 'শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে যেখানে যে ওষুধের প্রয়োজন সেই ওষুধ পৌঁছে যাবে।''
এসআইআরে নথি যাচাই প্রক্রিয়া ঠিক মতো হচ্ছে কি না, তা দেখতে প্রতিটি জেলায় জেলা বিচারক, জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারদের নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছে হাই কোর্ট। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশিকা মেনে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জুডিশিয়াল অফিসারদেরও ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত সমস্ত ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যাঁরা ছুটিতে আছেন, তাঁদের অবিলম্বে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই এই নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও আইডি তৈরি না হওয়ায় এই প্রক্রিয়ার শুরুতেই সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা।
যদিও কমিশনের দাবি, সোমবারেই সমস্যা মিটে যাবে। এক্ষেত্রে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা ফোন নম্বর দিয়েই লগ ইন করতে পারবেন। বিধানসভা ভিত্তিক তালিকা দিলে ফোন নম্বর দিতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কমিশনের প্রস্তাব, ১.৫ কোটি ভোটারকেই যাচাই করতে হবে। এই প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, ''আমাদের কাজ বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরি করা। সেটাই প্রধান এবং একমাত্র লক্ষ্য।''
অন্যদিকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হবে। মনে করা হচ্ছে, দোলের পরেই বঙ্গ বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা হতে পারে। যদিও তার আগেই বাংলায় চলে আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাহিনী মোতায়েন নিয়ে সোমবারই বৈঠকে বসছে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর। যেখানে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক নিরাপত্তা আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আর এহেন বৈঠকের আগেই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য মনোজ আগরওয়ালের। তিনি বলেন, ''শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য যেখানে যে ওষুধের প্রয়োজন সেখানে সেই ওষুধ পৌঁছে যাবে।''
