আগেই জানা গিয়েছিল প্রায় এক বছর পর রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান হচ্ছে মণিপুরে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী পাচ্ছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যটি। সেই মতোই বুধবার নোটিস জারি করল কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এদিনই সন্ধে ৬টা নাগাদ মণিপুরের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন বিজেপির নতুন মুখ ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। তিনি মেইতেই সম্প্রদায়ভুক্ত। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘ হিংসা পেরিয়ে এবার কি শান্তি ফিরবে মণিপুরে?
সোমবার জরুরি তলবে দিল্লিতে আসেন মণিপুরের এনডিএ বিধায়করা। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁরা একটি বৈঠক করেন। তখন থেকেই গুঞ্জন শুরু হয়েছিল মণিপুরে সরকার গড়তে কোমর বেঁধে নেমেছে গেরুয়া শিবির। অবশেষে মঙ্গলবার জানা গেল, মণিপুরের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন খেমচাঁদ। তিনি মেইতেই সম্প্রদায়ভুক্ত। জানা গিয়েছে, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি লোকভবনে অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে সকাল থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
'মণিপুর বিজেপি'র এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানানো হয়েছে, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি হবে সন্ধে ৬টা নাগাদ লোকভবনে। এইসঙ্গে দলের বিবৃতি, "তাঁর (খেমচাঁদ সিং) অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে মণিপুর শান্তি, উন্নয়ন এবং সুশাসনের পথে এগিয়ে যাবে। রাজ্যে স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির এক নতুন যুগের সূচনা হবে।"
সোমবার জরুরি তলবে দিল্লিতে আসেন মণিপুরের এনডিএ বিধায়করা।
২০২৩ সাল থেকে ভয়াবহ হিংসার আগুনে জ্বলেছে মণিপুর। মৃত্যু হয়েছে ৩০০-র বেশি মানুষের, ঘরছাড়া লক্ষাধিক। মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের সেই সংঘর্ষ পেরিয়ে বর্তমানে কিছুটা শান্ত উত্তর-পূর্বের এই রাজ্য। ফলে সরকার গঠন হলে মণিপুরে যাতে নতুন করে হিংসা না ছড়ায় তার জন্য বিজেপির পরিকল্পনা মেইতেই সম্প্রদায় থেকে মুখ্যমন্ত্রী ও কুকি সম্প্রদায় থেকে উপমুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়া। তাতেই যেন সিলমোহর পড়ল। যদিও উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনও জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, মণিপুরের হিংসা থামাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। তাঁর বিরুদ্ধে বারবার গর্জে উঠেছিল বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে ২০২৪-এর শেষ দিন মণিপুরে রক্তক্ষয়ী হিংসার জন্য রাজ্যের সমস্ত নাগরিকের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন বীরেন। এরপর থেকেই তাঁর গদি টলমল করছিল। অবশেষে চাপের মুখে গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন বীরেন। তারপর প্রাথমিকভাবে ছ’মাসের জন্য মণিপুরে জারি করা হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। কিন্তু পরে সেই মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। অবশেষে ৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হল মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন।
