মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফে আরোপিত ‘আন্তর্জাতিক আমদানি শুল্ক’কে বেআইনি ঘোষণা করেছে সেখানকার সুপ্রিম কোর্ট। এর পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কী হবে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি? এই চুক্তিতে ভারতের আদৌ কোনও লাভ হবে কি না প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এবার এই ইস্যুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মোদিকে 'বিশ্বাসঘাতক' বলে তোপ দাগার পাশাপাশি তাঁর কটাক্ষ, ফের আত্মসমর্পণ করবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
এই ইস্যুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তোপ দেগে শনিবার এক্স হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধী লেখেন, 'প্রধানমন্ত্রী দর কষাকষি করতে পারবেন না। তিনি আবার আত্মসমর্পণ করবেন। তাঁর বিশ্বাসঘাতকতা সবার সামনে চলে এসেছে।' শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী যে ফের আত্মসমর্পণ করতে চলেছেন তা প্রমাণ করতে এক্স হ্যান্ডেলে নিজের সেই বার্তা 'পিন' করে সবার উপরে রেখেছেন রাহুল। কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও। তিনি লিখেছেন, 'মোদি যদি নিজের ভঙ্গুর ভাবমূর্তি ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা ছেড়ে আর কিছুদিন অপেক্ষা করতেন, তাহলে দেশের কৃষকদের এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। দেশের সার্বভৌমত্বও সুরক্ষিত থাকত।'
উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে বহুদিন ধরেই ‘শুল্কযুদ্ধ’ চালাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। দু'দফায় ভারতের উপর চাপানো হয়েছিল ৫০ শতাংশ শুল্ক। তবে এ মাসের শুরুতেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার পর তা কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, নয়াদিল্লি সম্মত হয়েছে রুশ তেল আর না কেনার ব্যাপারে। এদিকে গত শুক্রবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জরুরি ভিত্তিতে আরোপ করা বাড়তি ট্যারিফ এবং রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ, দু’টিই বাতিল হয়ে গিয়েছে।
আমেরিকার আদালতের রায়ের পর বিশ্বের সমস্ত দেশের মতোই ভারতকেও ১৮ নয় ১০ শতাংশ শুল্ক দিলেই চলবে। কিন্তু ট্রাম্প আবার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এবার অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক চাপাবেন। ফলে আপাতত ভারতকে সেই অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে।
কিন্তু নয়া রায়ের পরে পরিস্থিতি আবার বদলেছে। বিশ্বের সমস্ত দেশের মতোই ভারতকেও ১৮ নয় ১০ শতাংশ শুল্ক দিলেই চলবে। কিন্তু ট্রাম্প আবার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এবার অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক চাপাবেন। ফলে আপাতত ভারতকে সেই অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে। কিন্তু সংবিধানের ১২২ ধারা অনুসারে ট্রাম্প অতিরিক্ত শুল্ক চাপালেও তা ১৫০ দিনের বেশি চাপানো যাবে না। ফলে সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেই আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আর কার্যকর থাকবে না। তবে এরপরও ট্রাম্প চাইলে নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক চাপাতে পারেন। বাণিজ্য চুক্তি কার্যত সম্পন্ন হওয়ার পর এই রায় সমস্যায় ফেলেছে দুই দেশকে। এই ডামাডোলের মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
