ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের সংঘাতের ঝাঁজ এসে পড়েছে ভারতবাসীর রান্নাঘরে। বাজার থেকে কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার। এহেন পরিস্থিতিতে লোকসভায় বিবৃতি দিয়েছেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদী সিং পুরী। কিন্তু তাঁর বিবৃতির পরেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর তোপ, আপস করেছেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী। কার থেকে তেল কেনা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছেন হরদীপ।
মন্ত্রীর বক্তব্যের পালটা দিয়ে হরদীপ বলেন, "প্রত্যেক দেশের মূল ভিত্তি হল তাদের শক্তি সম্পদের জোগান সুরক্ষিত থাকা। কিন্তু আমরা কার থেকে তেল কিনব, কার থেকে গ্যাস কিনব, রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারব কিনা-সমস্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আমেরিকা, এবং সেটা আমরা মেনেও নিচ্ছি। তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের কেমন সম্পর্ক থাকবে সেটা আমরা ঠিক করব। কিন্তু সেই স্বাধীনতাও অন্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভারতের মতো বিরাট দেশ, তারা কেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমতি নিয়ে রুশ তেল কিনবে?"
এখানেই না থেমে এপস্টেইন ফাইল ইস্যু টেনে খোঁচা দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ। হরদীপের বক্তব্য় পেশের সময়ে "এপস্টেইন, এপস্টেইন" ধ্বনি তুলেছিলেন বিরোধীরা। তারপরেই রাহুল বলেন, "এই গোটা ধাঁধাটা আমি সমাধান করে ফেলেছি। ধাঁধাটা হল আপসের আর আমাদের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর।" উল্লেখ্য, 'কেচ্ছার ডায়েরি' এপস্টেইন ফাইলে বেশ কয়েকবার হরদীপ পুরীর নাম রয়েছে। সেই নিয়ে সংসদেও উত্তেজনা হয়েছে।
রাহুলের এহেন অভিযোগের পালটা দিয়ে সংসদে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও। পুরীর মতে, "বর্তমানে বিশ্বে যে সংকট দেখা দিয়েছে, আধুনিক দুনিয়ায় এমনটা প্রথমবার। দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত আছে। যুদ্ধের জেরে গোটা বিশ্বে যখন জ্বালানি সংকট, সেটার আঁচ ভারতে পড়েনি। প্রধানমন্ত্রীর অনবদ্য কূটনীতিতে ভর করে আমরা অনেক জ্বালানি মজুত করেছি।" এই কয়েকদিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে যে পরিমাণ তেল আসার ছিল, তার থেকে বেশি তেল মজুত রয়েছে ভারতে, এমনটাই জানিয়েছেন পুরী।
