'আমি কালেক্টরের অফিসে যাব, সেখানেই নিজেকে শেষ করে দেব'! মরিয়া হয়েই এভাবে প্রকাশ্যে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন রাজস্থানের এক বিএলও (Rajasthan BLO)। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। (যদিও তার সত্যতা যাচাই করে দেখেনি 'সংবাদ প্রতিদিন')।
এর আগে বিজেপি শাসিত রাজ্যে দিনরাত এক করে এসআইআরের (SIR) কাজ করতে বাধ্য হওয়ায় শারীরিক, মানসিক ধকল সইতে না পেরে অন্তত তিনজন বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁদের পরিবারের অভিযোগ। অ্যাপের গন্ডগোল, পর্যাপ্ত ট্রেনিং না দিয়ে ভোটের কাজে নামানোর অভিযোগও রয়েছে। কিন্তু সংখ্যালঘু নাম লিস্ট থেকে কেটে দেওয়ার ফতোয়া দিয়ে চাপসৃষ্টির অভিযোগ এই প্রথম শোনা গেল।
মারাত্মক অভিযোগ কীর্তি কুমার নামে ওই বিএলও-র। গত বিধানসভা ভোটে কম মার্জিনে জেতা বিজেপি প্রার্থীদের কেন্দ্রগুলিতে একতরফা মুসলিম ভোটারদের নাম খসড়া এসআইআর লিস্ট থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর প্রবল চাপ আসছে বলে দাবি করেছেন জয়পুরের মুসলিম অধ্যুষিত হাওয়া মহল বিধানসভা কেন্দ্রের এই বিএলও। পেশায় সরকারি স্কুলের শিক্ষক কীর্তি জানিয়েছেন, তাঁর বুথের ৪৭০ জন অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটারের নামে আপত্তি তুলে বিজেপি খসড়া থেকে সেগুলি বাদ দিতে এমন চাপ, হুমকি দিচ্ছে যা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
কীর্তির দাবি, বিজেপির আপত্তি তোলা নামগুলি মুসলিম ভোটারদের। তিনি খতিয়ে দেখেছেন, সবাই বৈধ! কীর্তির ভিডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলর সুরেশ সাহানিকে তিনি ফোনে বলছেন, গোটা বস্তির ভোটারদের নাম হয়তো কেটে দেব যাতে আপনার, 'মহারাজে'র সহজে ভোটে জিততে সুবিধা হবে। বিজেপি বিধায়ক বালমুকুন্দ আচার্যকে 'মহারাজ' বলে উল্লেখ করা হয়েছে ভিডিওতে। ২০২৩-এর বিধানসভা ভোটে হাওয়া মহলে তিনি মাত্র ৯৭৪ ভোটে জেতেন। তিনি আবার জয়পুরের দক্ষিণমুখিজি বালাজি মন্দিরেরও আচার্য।
অভিযোগ, ভোটে জেতার পর থেকে বারংবার মুসলিমদের নিশানা করে নানা মন্তব্যে বিতর্কে জড়িয়েছেন মহারাজ। এসআইআরের কাজে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়ায় কীর্তির স্কুলের পড়ুয়াদের ক্ষতি হচ্ছে। এবার তাঁর অভিযোগ, তাঁকে মাত্র ২ দিনের মধ্যে ৪৭০টি ফর্ম প্রসেস করতে হুকুম করা হচ্ছে। কীর্তি জানিয়েছেন, গোটা প্রক্রিয়াটা শেষ করতে ৭৮ ঘণ্টা চাই, গোটা পর্বটা ফের নতুন করে করতে হবে। অর্থাৎ এই ভোটারদের বৈধতা আবার যাচাই করতে হবে।
