সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল। পুলিশি অভিযানে রাজস্থানের এক ফার্মহাউস থেকে উদ্ধার হল ১০ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। যা মারণ বিস্ফোরক আরডিএক্স-এর মশলা হিসেবে পরিচিত। ১৮৭টি বস্তায় বোঝাই করা ছিল এই বিপুল বিস্ফোরক। এই ঘটনায় সুলেমান খান নামে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে রাজস্থানের নাগৌর জেলার হারসৌর গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। ফার্ম হাউসের গুদামে হানা দিতেই পুলিশের নজরে আসে রাশি রাশি বস্তা। তাতে তল্লাশি চালাতেই দেখা যায় প্রতিটি বস্তায় মজুত রয়েছে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকের মশলায় স্বাভাবিকভাবেই চোখ কপালে ওঠে পুলিশের। আরডিএক্স তৈরির প্রধান এই উপাদানের পাশাপাশি আরও বহু বিস্ফোরক তৈরির সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে রয়েছে ডিটোনেটর তৈরির ৯টি কার্টন, ৫ বান্ডিল ব্লু ফিউজ তার, ১২টি কার্টন, পাঁচ বান্ডিল রেড ফিউজ তার।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সুলেমান ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। এর আগে তিনটি মামলায় পুলিশের খাতায় নাম রয়েছে অভিযুক্তের। কেন এত পরিমাণ বিফরক মজুত করা হয়েছিল তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি অচভিযুক্ত। সুলেমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি খবর দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও। তারাও অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, দেশে বড়সড় কোনও নাশকতার ছক ছিল অভিযুক্তদের।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লার সামনে ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এর ঠিক আগে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গা তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক। যার সরাসরি যোগ ছিল দিল্লির বিস্ফোরণের সঙ্গে। এবার সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে রাজস্থানে ১০ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার উদ্বেগ বাড়িয়েছে তদন্তকারীদের।
