সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর ভাষণে উঠে এল নারী শক্তির জয়গান। জানালেন, ''দেশের অগ্রগতির লক্ষ্যে মহিলাদের সক্রিয় ও স্বাবলম্বী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" যুবসমাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "যুবসমাজ দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে।"
জাতির উদ্দেশে ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, "দেশের উন্নতির জন্য মহিলাদের সক্রিয় ও স্বাবলম্বী হওয়া একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ আমাদের মা ও বোনেরা অচলায়তন ভেঙে এগিয়ে চলেছেন। দেশের উন্নয়নে তাঁরা সক্রিয় অবদান রাখছেন। উন্নত ভারত গঠনে নারীশক্তির ভূমিকা একান্ত আবশ্যক। তাঁদের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি দেশের লিঙ্গ সমতা ও গণতন্ত্রে উজ্জ্বল অবদান রাখবে।"
রাষ্ট্রপতি বলেন, মহিলাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কেন্দ্রীয় প্রচেষ্টা বহু ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণকে বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে "বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও" অভিযান শিক্ষা ক্ষেত্রে মহিলাদের উৎসাহিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার আওতায় এখন পর্যন্ত ৫৭ কোটিরও বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫৬ শতাংশই মহিলাদের। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ১০ কোটিরও বেশি মহিলা যুক্ত হয়েছেন। কৃষিক্ষেত্র থেকে মহাকাশ, স্টার্ট-আপ থেকে সেনা সর্বত্র মহিলাদের উজ্জ্বল উপস্থিতির প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, "আজ আমাদের মেয়েরা ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশ্বপর্যায়ে নজির সৃষ্টি করেছে। গত বছরের নভেম্বরে দেশের মেয়েরা আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ এবং তারপর দৃষ্টিহীনদের মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। দাবা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দুই ভারতীয় মহিলা। আজ পঞ্চায়েত ক্ষেত্রেও মহিলা প্রতিনিধির সংখ্যা প্রায় ৪৬ শতাংশ। মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে নয়া উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।''
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ভারতীয় জ্ঞান, ঐতিহ্য, দর্শন, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত, সাহিত্য এবং শিল্প বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। আমাদের কাছে গর্বের বিষয় যে "জ্ঞান ভারতম মিশন"-এর মতো প্রচেষ্টা ভারতীয় ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও প্রচার করছে। ভারতীয় ভাষা এবং ঐতিহ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে, স্বনির্ভরতার প্রচেষ্টাকে এক সাংস্কৃতিক ভিত্তি প্রদান করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ, গণতন্ত্রের শক্তি ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বহুমুখী উন্নয়নের পথে এগোতে হলে ঐক্য, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখা জরুরি। দেশের যুব সমাজের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্রের ভিত মজবুত রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন অনেকটাই যুবকদের কাঁধে। শিক্ষা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন থেকে শুরু করে সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও তরুণরাই নতুন ভারতের দিশা দেখাচ্ছে।
