রামমন্দিরে দেদার চুরি করেছেন। সেই চুরির টাকা রীতিমতো বিলিয়ে দিয়েছেন পরিবার-বন্ধুদের মধ্যে! গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে জেরা করে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য় পেল পুলিশ। জানা গিয়েছে, অবিনাশ শুক্ল নামে ওই ব্যক্তি অন্তত ১৯ লক্ষ টাকা স্রেফ বিতরণ করেছে। কখনও ভাইয়ের বিয়ে, কখনও বন্ধুকে উপহার-রামমন্দির থেকে চুরি করা টাকা নানাভাবে খরচ করেছেন অবিনাশ।
জানা গিয়েছে, এক ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে অন্তত ৬ লক্ষ টাকা খরচ করেছিলেন রামমন্দিরে চুরির অন্য়তম প্রধান অভিযুক্ত। আরেক ভাইকেও ৬ লক্ষ টাকা দিয়ে সাহায্য করেন। এক বন্ধুকে আড়াই লক্ষ টাকা দেন, তাঁকে কিনে দেন দামি ফোনও। এছাড়াও অপেক্ষাকৃত কম অঙ্কের অর্থ বারবার অনেককে পাঠিয়েছেন অবিনাশ। সবমিলিয়ে অন্তত ১৯ লক্ষ টাকা এইভাবে খরচ করেছেন।
অন্যদিকে, রামমন্দির উদ্বোধনের পরপরই ভাইয়ের নামে একটি জমি কিনেছিলেন অবিনাশ। সেসময়ে টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভাই। কিন্তু সেই প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যাওয়া হয় বলেই জানা গিয়েছে। এছাড়া নিজের জন্য প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা দিয়ে একটি গাড়িও কিনেছিলেন অবিনাশ। আপাতত সেটি পুলিশের হেফাজতে। জমি কেনার প্রক্রিয়াও যাচাই করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে অন্তত ২০.৩৯ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয় অবিনাশের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে। হাজারের উপর মার্কিন ডলার, সোনার গয়ন মিলেছে। একটি এসইউভি গাড়িও ছিল তাঁর।
উল্লেখ্য, রামমন্দিরে ভক্তদের অনুদান চুরি করে রাতারাতি ‘বড়লোক’ হয়ে উঠেছিলেন আরেক অভিযুক্ত অনুকল্প মিশ্রও। কয়েক বছর আগেও কার্যত দিন আনি দিন খাই দশা ছিল তাঁর বর্তমানে গ্রামের বাড়িটা প্রাসাদে পরিণত করে ফেলেছেন অনুকল্প। বলা যেতে পারে, গ্রামের সবচেয়ে বড় বাড়ি এই প্রাসাদটিই। শুধু তাই নয়, গ্রামের বাইরে বিশাল ফার্মহাউজও বানিয়েছেন অনুকল্প। প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকায় অযোধ্যায় একটি বাড়িও কিনেছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, বছরতিনেক আগে রামমন্দিরের অনুদান গোনার কাজ শুরু করেছিলেন অনুকল্প। তারপর থেকেই তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে হু হু করে।
