‘হিন্দুদের নিয়োগ করুন। গাজওয়া-ই-হিন্দের পরিকল্পনা থামাবেন না।’ পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তির আগেই যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে ফাঁস হল আরও একটি সন্ত্রাসবাদী চক্রান্ত, পাক মডিউল। উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাসদমন শাখার তদন্তে বড়সড় জঙ্গি চক্র ফাঁস হল মিরাটে। এই জঙ্গি চক্র ‘গাজওয়া-ই-হিন্দ’-এর মতো বিপজ্জনক মতাদর্শ ছড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল। সংবাদ সংস্থার খবর, এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো সামনে এসেছে এই চক্রের অন্যতম সদস্য জঙ্গি শাকিবের রিমান্ড চলাকালীন।
গাজওয়া-ই-হিন্দ বা ধর্মযুদ্ধ! তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে হিন্দু যুবকদের দলে টানার ছক কষা হয়েছিল। যাতে কোনও জায়গায় ঢোকা বা ঘোরাফেরা করা নিয়ে সন্দেহ না হয়। শাকিব নির্দেশ মেনে বিকাশ ও লোকেশকে দলে নেয়। দু’জনকে দেওয়া হয়েছিল কোডনেম–বিকাশ ছিল ‘জাহিদ’ এবং লোকেশ ‘সালিম’। বিশেষত লোকেশকে নানা ধর্মীয় ও সংবেদনশীল জায়গায় রেকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কারণ হিন্দু পরিচয়ে সেখানে সহজেই ঢোকা সম্ভব হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, দুবাই-ভিত্তিক ‘আকিব’ নামে এক ব্যক্তি এই জঙ্গি মডিউলের কাজের সমন্বয় করত। শাকিব ও পাকিস্তানে অবস্থানরত হ্যান্ডলারদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে কাজ করত আকিব। টাকা, উগ্রবাদী মতাদর্শের মাধ্যমে প্রলুব্ধ করে সে তাদের দলে টেনেছিল।
হিন্দু যুবকদের দলে টানার ছক কষা হয়েছিল। যাতে কোনও জায়গায় ঢোকা বা ঘোরাফেরা করা নিয়ে সন্দেহ না হয়। শাকিব নির্দেশ মেনে বিকাশ ও লোকেশকে দলে নেয়।
প্রসঙ্গত, ভারতের অপারেশন সিঁদুর-এ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘গাজওয়া-ই-হিন্দ’-এর ডাক দিয়েছিলেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে দাঁড়িয়ে এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার ইলিয়াস কাশ্মীরি। আর এই ঘটনার প্রায় এক বছরের মাথায় পাক ষড়যন্ত্র ফাঁস। অভিযুক্ত শাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় জানা যায়, পাকিস্তানের হ্যান্ডলাররা তাকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিল, ‘মিশন অসম্পূর্ণ রেখে ধরা পড়বে না’। তারা আরও বলেছিল, ভারত যদি কোনও ফলস ফ্ল্যাগ অভিযান চালায়, তাহলে সেই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে মডিউলকে সক্রিয় রাখবে। এই গোপন নির্দেশেই শাকিব নিজের নেটওয়ার্ক বাড়াতে থাকে।
উত্তরপ্রদেশে একাধিক পাক-যোগ ও অনলাইন-চালিত মডিউল ধরা পড়েছে–আইএসআইএস সমর্থিত নেটওয়ার্ক, রেললাইনে আগুন লাগানোর পরিকল্পনা, লখনউ-কেন্দ্রিক ষড়যন্ত্র–সবকিছু মিলিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে, এই সব মডিউলের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না। একটি মামলার সূত্রে উত্তরপ্রদেশ এটিএস গৌতম বুদ্ধ নগর থেকে শাকিব ওরফে ‘ডেভিল’, আরবাব, বিকাশ ওরফে ‘রৌনক’ এবং লোকেশ ওরফে ‘পাপলা পণ্ডিত’-কে গ্রেপ্তার করেছে।
তদন্তকারীরা জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে শাকিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন সে তরুণ হিন্দু যুবকদের এই মডিউলে বা পরিকল্পনায় যুক্ত করে। আকিব ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের দলে ভেড়াত এবং প্রভাবিত করত। সে এসব মাধ্যমে একে-৪৭ রাইফেলের মতো আগ্নেয়াস্ত্রের ছবি বা ভিডিও শেয়ার করত এবং তরুণদের আকৃষ্ট করার জন্য অর্থের প্রলোভন দেখাত। তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে, এই মডিউলটি বিশিষ্ট ধর্মীয় ও হিন্দুত্ববাদী নেতাদের গতিবিধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করত। এটিএস-এর তদন্তে জানা গিয়েছে যে, এই জঙ্গি দলটি উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত একাধিক প্রতিরক্ষা ঘাঁটি এবং সেনানিবাস এলাকার উপর নজরদারি চালিয়েছিল। তারা এসব স্থানের ভিডিও করেছিল এবং পাকিস্তানে অবস্থানরত তাদের হ্যান্ডলারদের কাছে সেইসব ভিডিও পাঠিয়ে দিত। এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) অমিতাভ যশের মতে, শাকিবের সঙ্গে আকিবের সরাসরি যোগাযোগ ছিল, যে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এফআইআর-এ তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
