প্রায় দেড় বছর ধরে ভারতে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ে’ রয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে সে দেশে গণহত্যায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তাঁকে প্রত্যার্পণের জন্য বারবার অনুরোধ জানাচ্ছে ঢাকা, যা ঘিরে দু’দেশের চাপানউতর চলছে। বিতর্কের মাঝেই এবার মুখ খুললেন খোদ হাসিনা। পাশাপাশি, তোপ দাগলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, “আমি আমার নিজের দেশে ফিরতে চাই। আমি ফিরবই। ডিসেম্বরের মধ্যেই আমার ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা। কারণ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে দেওয়া যাবে না। আমার দেশে ফেরা ক্ষমতার জন্য নয়। এটি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়। আমি কি সারা জীবন বিদেশে পড়ে থাকতে পারি? আমাকে আমার দেশে, আমার আপনজনদের কাছে ফিরে যেতেই হবে।” প্রত্যর্পণ বিতর্কে তিনি বলেন, “আমি আমার দেশের ফিরব। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন তাতে আপত্তি করছেন। ভারতে আমার কোনও কর্মসূচি নিয়ে বর্তমান সরকারের হইচই করা উচিত নয়, কারণ ব্রিটেনে নির্বাসিত থাকাকালীন তারেকের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিয়ে আমরা কখনই কোনও প্রশ্ন তুলিনি। আমার দেশে ফিরে আসার বিষয়টি যেন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা না হয়।”
হাসিনা আরও বলেন, “আমি একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সংবাদ সম্মেলন করেছি। সেটা কীভাবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে? ২০০৭ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ করে ব্রিটেনে যাওয়ার সময় তারেক রহমান একটি স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর করে মুচলেকা দিয়েছিলেন যে তিনি রাজনীতি করবেন না। অথচ তিনি লন্ডন থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর মা খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জনসভা করেছেন। আমি কি কখনও ব্রিটিশ সরকারের কাছে এমন কোনও দাবি জানিয়েছি যে, আমার দেশের একজন পলাতক ব্যক্তিকে এ ধরনের সভা করা থেকে বিরত রাখতে হবে? আমি কখনও এমন কোনও অভিযোগ করিনি। তাহলে তাঁর সমস্যাটা কোথায়?”
