সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: গঙ্গাসাগর থেকে তৃণমূল নেত্রীর বার্তার পরই ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল সাংসদ। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। আদালতে তাঁর আবেদন, বাংলায় এসআইআরের সময়সীমা বাড়ানো হোক। এই প্রক্রিয়ায় কমিশনের একাধিক ভুল রয়েছে বলেও সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেছেন ডেরেক।
ডেরেকের দায়ের করা মামলায়, এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। দাবি, এই প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। তৃণমূল কমিশনকে একাধিকবার 'হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন' বলে কটাক্ষ করেছে। সেই সূত্র ধরেই ডেরেকের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বুথ লেভেল অফিসার ও অন্যান্য অফিসারদের হোয়াটসঅ্যাপের মতো 'অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে'র মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছে। যার ফলে নাগরিকদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর আঘাত আনা হয়েছে।
শীর্ষ আদালতে রাজ্যসভার সাংসদের আরও অভিযোগ, ৫৮ লক্ষ ভোটার অবৈধভাবে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। কোনও শুনানি ছাড়াই অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কমিশন বুথওয়ারি মৃত, স্থানান্তরিত, ভুয়ো ভোটারের তালিকা প্রকাশ করে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার কথা জানিয়েছিল কমিশন। কিন্তু সেই তালিকাতেও 'জল' রয়েছে বলে দাবি করে, কমিশনের খাতায় 'মৃত' তিনজন ভোটারকে নিজের জনসভার মঞ্চে হাজির করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ডেরেকের দায়ের করা মামলায় আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সিইও-র তরফে জারি করা স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা পিডিএফ রেকর্ডগুলিকে সিএসভি ফরম্যাটে রূপান্তর করে ডিজিটালাইজ করার প্রচেষ্টায় ভোটার ডেটা ম্যাপিংয়ে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়াটি তৃণমূল স্তরের যাচাইকরণ বা বুথ স্তরের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধান ছাড়াই করা হয়েছিল। এছাড়াও একাধিক অভিযোগ তুলে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মামলা দায়ের করেছে। সূত্র মারফত খবর, মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের দৃষ্টি আর্কষণ করা হয়েছে।
