কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নেহধন্য় শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর নাতি ও নাতবউয়ের নাম বাদ প্রসঙ্গ উঠল সুপ্রিম কোর্টে। এসআইআর শুনানিতে শীর্ষ আদালতের সাফ নির্দেশ, কমিশনকে নন্দলাল বসুর নাতির করা আপিলে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এর পাশাপাশি আজ অর্থাৎ সোমবার রাতের মধ্যেই কমিশনকে সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী আগামী শুনানি ১৩ এপ্রিল।
নন্দলাল বসুর ছোটো মেয়ে যমুনা সেনের ছেলে সুপ্রবুদ্ধ সেন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৮৮ বছর। তিনি ১৯৫৪ সালে পাঠভবন থেকে মাধ্যমিক পাশ করেছিলেন। বিশ্বভারতীতে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ডিভিসিতে চাকরি শুরু করেন। সেখানেই তিনি ৩২ বছর চাকরিরত ছিলেন। অবসরের পর ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি সস্ত্রীক পাকাপাকিভাবে শান্তিনিকেতনের ওই পৈতৃক বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি সব নির্বাচনেই ভোট দিয়েছেন। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, সুপ্রবুদ্ধ, তাঁর স্ত্রী দীপা সেন এবং পরিচারক চক্রধর নায়কের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ রয়েছে। এরপর শুনানির জন্য বাড়িতে আসে নির্বাচন কমিশনের লোকজন। সম্প্রতি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় তাঁদের নাম বাদ চলে গিয়েছে।
ভারতের সংবিধানের অলঙ্করণ করেছিলেন শিল্পী নন্দলাল বসু। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অত্যন্ত স্নেহধন্যও ছিলেন। বাংলার শিল্প-সংস্কৃতি শিল্পে নন্দলাল বসুর নাম জড়িয়ে আছেন যুগ যুগ ধরে। তাঁরই উত্তরসূরীর নাম বাদ! এই কথা জানার পরেই বিভিন্ন মহলে শোরগোল পড়ে যায়। এই ঘটনায় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁদের সব রকম সাহায্যের আশ্বাসও দেওয়া হয় সাংসদের তরফে। শান্তিনিকেতনের স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর চন্দন মণ্ডলকে তাঁর বাড়িতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সোমবার এসআইআর শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টে ওঠে নন্দনাল বসুর নাতির নাম বাদ প্রসঙ্গ। সেখানেই প্রধান বিচারপতি সাফ জানান, কমিশনকে নন্দলাল বসুর নাতি-নাতনির করা আপিলে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। বাকি তালিকা প্রকাশ নিয়ে কমিশন জানায় কমিশন জানায়, ই সিগনেচারের কাজ প্রায় শেষের পথে। এরপরই কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আজ রাতেই প্রকাশ করতে হবে সম্পূর্ণ তালিকা।
