ভূমিধসের জেরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। উত্তর সিকিমের লাচেনে আটকে পড়েছেন অন্তত আটশো পর্যটক। আবহাওয়া ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়েছে। আজ, সোমবার সকাল থেকে পর্যটকদের উদ্ধারের জন্য নেমেছে সেনা। বরফ কেটে রাস্তা বানানোর কাজ চলছে। বরফ সরিয়ে পর্যটকদের নামিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে হেল্পলাইন নম্বর চালু হয়েছে। ওই নম্বর দুটি হল ৯৯০৭৯৫৬৭০৫ এবং ০৩৫৯২২৮১০০৭।
দিন কয়েক ধরেই সিকিমের আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ। অবিরাম বৃষ্টি পাশাপাশি তুষারপাত চলতে থাকে। তারামচুতে চুংথাং-লাচেন সড়কপথের একাংশে ভূমিধস দেখা যায়। কয়েক মাস আগে যে রাস্তা, সেতু তৈরি হয়েছিল, তাইই ফের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। শুধু তাই ব্রিজের একাংশ ভেঙে ঝুলতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে রাস্তায় সার দিয়ে আটকে পড়েছিল পর্যটকদের অসংখ্য গাড়ি।
পর্যটকদের উদ্ধারের জন্য কাজ শুরু হয়। লাচেন-সহ আশপাশ এলাকায় অন্তত আটশো পর্যটক আটকে পড়েছেন বলে খবর। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। নামানো হয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পস। এছাড়াও ভারত-তিব্বত বর্ডার পুলিশ, বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন এবং পুলিশও উদ্ধারে নেমেছে। রবিবার ভোরে অবিরাম বৃষ্টির জেরে তারামচুতে চুংথাং-লাচেন সড়ক ভূমিধসে তলিয়ে যাওয়ায় ওই পর্যটকরা আটকা পড়েন। সড়কটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়েছে। এটা জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র লাচেনে যাতায়াতের একমাত্র পথ। লাচেনের দিকে যাওয়া পর্যটকদের ডনকিয়ালা-লাচুং পথ দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
রাস্তা বার করে উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে সেনা। ছবি- সংগৃহীত
অন্যদিকে যারা ইতিমধ্যে লাচেনে আটকে রয়েছেন রবিবার রাতে নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গন জেলা প্রশাসনের তরফে তাদের সেখানেই হোটেল অথবা হোমস্টেগুলোতে থাকতে বলা হয়। সোমবার সকালে তাদের ঘুরপথে লাচেন, ডংকিয়া-লা, লাচুং হয়ে গ্যাংটকে নামিয়ে আনার অভিযান শুরু হয়েছে। যদিও আবহাওয়া খারাপ থাকায় অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। তুষারপাত চলছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, লাচেন–ডংকিয়া লা–লাচুং–গ্যাংটক রুট দ্রুত পরিষ্কার করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা মেরামত ও বরফ সরানোর কাজ চলছে। পর্যটক এবং স্থানীয়দের শান্ত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
পাশাপাশি সরকারি নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া এবং রাস্তার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে পর্যটকদের নামিয়ে আনার কাজ চলবে। জরুরি প্রয়োজনে হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এই মুহূর্তে উত্তর সিকিমের এই অংশে পর্যটকদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
