পরিবার চেয়েছিল পুত্র সন্তান। সেই কারণে চার বছর বয়সি যমজ দুই মেয়েকে জলে ডুবিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল তাদেরই বাবার বিরুদ্ধে। এই খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে সহযোগিতা করেছে তার বাবা, মা ও ভাই। ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার জুবিলি নগর গ্রামে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৪ জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
করিমনগর গ্রামীণ সার্কেল ইন্সপেক্টর এ নিরঞ্জন রেড্ডি জানিয়েছেন, মৃতের বাবা শ্রীশৈলম, তার বাবা-মা অশোক ও লাবণ্য় ও ছোটো ভাই রাকেশ কয়েকমাস ধরে এই খুনের পরিকল্পনা করেছে। অভিযুক্তরা বিশ্বাস করত, মেয়েরা পরিবারের 'বোঝা' হয়ে উঠবে। শ্রীশৈলম কোনও দিন কন্যা সন্তান চায়নি। সে প্রথম থেকেই পুত্র সন্তান চেয়েছিল। স্ত্রী গর্ভবতী থাকাকালীন সে জানতে পারে, তাঁর গর্ভে যমজ কন্যা সন্তান রয়েছে। তাঁর গর্ভপাত করানোর চেষ্টাও হয়। কিন্তু গর্ভপাতে রাজি হননি শ্রীশৈলমের স্ত্রী মৌনিকা।
জানা গিয়েছে, ২৮ বছর বয়সি শ্রীশৈলম স্নাতকোত্তর পাশ করেছে। সে প্রতিমা মেডিকেল কলেজে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিল। ২০২০ সালে সে মৌনিকাকে বিয়ে করে। ২০২২ সালে এই দম্পতির যমজ কন্যাসন্তান হয়। প্রথম থেকেই তাদের মেনে নিতে চায়নি শ্রীশৈলম। এমনকী হাসপাতালে সন্তানদের কাছেও যায়নি সে। তার বাবা-মা এবং ছোট ভাইও মেয়েদের পছন্দ করত না। এই নিয়ে পরিবারে নিয়মিত অশান্তি হত। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে মৌনিকাকে তাঁর বাবার বাড়িতেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শ্রীশৈলমের ধারণা ছিল তার প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি মেয়েদের বিয়েতে খরচ হয়ে যাবে। ওই একই ধারণা ছিল তার বাবা-মা এবং ভাইয়েরও। অবশেষে, পরিবারের চারজন মিলে দুই মেয়ের হত্যার পরিকল্পনা করে।
জানা গিয়েছে, ৩ এপ্রিল বিকেলে শ্রীশৈলম তার স্ত্রীকে মাংস রান্না করতে বলে। এরপর দুই মেয়েকে নিয়ে পরিবারের কৃষি জমিতে চলে যায়। ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি সময় বেছে নেওয়া হয়েছিল যখন জমিতে কোনও কৃষক থাকে না। এরপর মেয়েদের একটি কুয়োর সামনে নিয়ে গিয়ে একে একে কুয়োয় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় শ্রীশৈলম। দুই মেয়ের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। দ্বিতীয়জন জলে হাবুডুবু খেয়ে বাঁচার চেষ্টা করতে থাকে। মেয়ে বেঁচে আছে বুঝতে পেরে কুয়োয় নেমে নিজে হাতে জলে ডুবিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে অভিযুক্ত। ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করে সে। খুনের পর সাহায্য়ের জন্য চিৎকার করতে থাকে। পরে তার বক্তব্যে গ্রামবাসীদের সন্দেহ হওয়ায় তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সে বাবা-মা ও ভাইকে জানায় যে, "তাদের পরিকল্পনা সফল হয়েছে"। চার অভিযুক্ত গোপালপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। সেখান থেকেই তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
