Advertisement
মাওবাদ অতীত! জন্মদিনের আগে বস্তারে শিশুদের সঙ্গে শচীন, ৫০ স্কুলের হাত ধরলেন 'ঈশ্বর'
জন্মদিনের আগে একদা মাও-অধ্যুষিত দান্তেওয়াড়ায় মেয়ে সারা ও পুত্রবধূ সানিয়া চান্দোককে নিয়ে উপস্থিত শচীন।
২৪ এপ্রিল শচীন তেণ্ডুলকরের জন্মদিন। এবার ৫৩ বছরে পা দেবেন ক্রিকেটের 'ঈশ্বর'। জন্মদিনটা পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কাটাতে ভালোবাসেন অনেকে। শচীনও তাই করেন। তবে তাঁর পরিবার অনেক বড়, গোটা দেশ। তাই জন্মদিনের আগে একদা নকশাল অধ্যুষিত বস্তারে শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলোয় সময় কাটালেন 'মাস্টার ব্লাস্টার'।
একদা বস্তার ছিল মাওবাদীদের চারণভূমি। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে দেশকে মাওবাদীমুক্ত করার শপথ নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সময়সীমার মধ্যেই কার্যত মাওমুক্ত হয়েছে ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চল। একাধিক ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাওবাদী নেতা আত্মসমর্পণ করেছেন।
একসময় লাল সন্ত্রাসের আখড়ার নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলোর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করতে চায় প্রশাসন। আর সেখানে শচীন তেণ্ডুলকরের থেকে বড় মুখ আর কে হতে পারেন। জন্মদিনের দু'দিন আগে দান্তেওয়াড়ার ছিন্দনার গ্রামে মেয়ে সারা ও পুত্রবধূ সানিয়া চান্দোককে নিয়ে উপস্থিত শচীন।
সোশাল মিডিয়ায় আগেই ঘোষণা করেছিলেন কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ। জানিয়ে ছিলেন, এবারের ২২ এপ্রিল আলাদা হতে চলেছে। শচীন তেণ্ডুলকর ফাউন্ডেশন ৫০টি স্কুলের মাঠ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করবে। সেখানে স্ত্রী অঞ্জলি ও পুত্র অর্জুনেরও অবদান আছে। ৫০০০-র বেশি শিশু-কিশোর একটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। যেখানে কবাডি, খো খো, দড়ি টানাটানির মতো খেলা থাকবে।
কথা রেখেছেন শচীন। আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে মাটির মানুষের মতো মিশে গেলেন 'ভারতরত্ন' ক্রিকেটার। বস্তারের মানোন্নয়নে খেলাধুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই। তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এই প্রতিযোগিতার নাম 'ময়দান কাপ'।
শচীনের মতে বস্তার হল 'কাচা হিরে।' ৫০০০ শিশু-কিশোরের সঙ্গে বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। মাঠে নেমে আসেন কন্যা সারা ও পুত্রবধূ সানিয়া। তাঁদের নিয়ে উন্মাদনা ছিল দেখার মতো। খুদেদের ব্যাটে সই করে দেন শচীন। অনেকের কাছে এটা ছিল যেন স্বপ্নপূরণ।
অনুমান, এক-একটি মাঠ তৈরিতে খরচ পড়বে ৪ লক্ষ টাকা। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী শচীনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "দান্তেওয়াড়ার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে আপনার আগমন আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। শুধু তাই নয়। বস্তার অঞ্চল যে পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমরা নতুন শক্তি পাব।"
আর শচীন বলেন, "আপনাদের মতো আমিও খুব খুশি। আপনাদের মুখে হাসি দেখে আমার মুখে, সারা ও সানিয়ার মুখে হাসি ফুটছে। আমরা হৃদয় থেকে খুশি, যা মাপা যাবে না। আমার কাছে এই অভিজ্ঞতা অমূল্য। সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।"
পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, লক্ষ্যপূরণে কোনও শর্টকাট নেই। পরিশ্রম করে, নিয়মিত অনুশীলন করে, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেই উন্নতি সম্ভব। খুদেদের তাঁর পরামর্শ, ভালো মানুষ হও। ভালো বন্ধু বাছো। বিষ্ণুদেও সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'আপনি আসায় ভয় দূর হয়ে ইতিবাচক শক্তি জোগাবে।'
উল্লেখ্য, গতবছর জন্মদিনের আগে রাঁচিতে গিয়েছিলেন শচীন। সেখানে খুদে ফুটবলারদের উন্নতির জন্য হাজির হয়েছিলেন তিনি। নতুন মহিলা ফুটবলার তুলে আনার কাজে শচীন তেণ্ডুলকর ফাউন্ডেশন এখানকার ইউথ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করছে। পরে তাঁকে ফুটবল মাঠে খুদে খেলোয়াড়দের সঙ্গে মেতে উঠতেও দেখা যায়।
তার আগে কাশ্মীরের স্থানীয়দের সঙ্গে পাহাড়ি রাস্তায় একের পর এক শট মারতে দেখা গিয়েছিল লিটল মাস্টারকে। সেখানে গিয়ে বড় ঘোষণা করেছিল তাঁর শচীন তেণ্ডুলকর ফাউন্ডেশন। বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য মানবিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন ‘গড অফ ক্রিকেট’। অঙ্গবিকৃতি রোগে ভুগতে থাকা শিশুদের পাশে দাঁড়ায় তাঁর সংস্থা।
Published By: Arpan DasPosted: 07:21 PM Apr 23, 2026Updated: 07:21 PM Apr 23, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
