shono
Advertisement
Yasin Malik

'যাবজ্জীবন পর্যাপ্ত নয়', হাই কোর্টে ইয়াসিন মালিকের মৃত্যুদণ্ডের দাবি NIA-র

জম্মু ও কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদে মদত যোগাতে ও ভারত বিরোধী ষড়যন্ত্রে হাত ছিল এই জঙ্গির। সেই লক্ষ্য এগিয়ে নিয়ে যেতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, সাংসদ ও মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগ ছিল ইয়াসিনের।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 04:02 PM Apr 23, 2026Updated: 05:43 PM Apr 23, 2026

জম্মু ও কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিককে ফাঁসিতে ঝোলানোর আর্জি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ)। ইউএপিএ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা খাটছেন ইয়াসিন (Yasin Malik)। এনআইএ-র দাবি, ইয়াসিনের অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। তাঁর জন্য যাবজ্জীবন সাজা যথেষ্ট নয়, ওনাকে ফাঁসি দেওয়া হোক।

Advertisement

গত বছর দিল্লি হাই কোর্টে একটি হলফনামা জমা দিয়েছিলেন সন্ত্রাসে মদতের অভিযোগে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ইয়াসিন। ওই হলফনামায় তিনি দাবি করেছেন, ইউপিএ সরকারের আমলে পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনীতিবিদ ও জঙ্গিনেতাদের সঙ্গে ব্যাক চ্যানেল দিয়ে আলোচনার মাধ্যম হিসাবে তাঁকে ব্যবহার করা হত। ইয়াসিনের দাবি, ২০০৬ সালে তিনি নিজে তৎকালীন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর স্পেশ্যাল ডিরেক্টর ভিকে জোশীর নির্দেশে পাক জঙ্গি নেতা হাফিজ সইদের সঙ্গে দেখা করেন। ভারত সরকারের শান্তি বার্তা তাঁর কাছে পৌঁছে দেন। আরও জানিয়েছিলেন, তিনিই ভারত সরকারের শান্তিবার্তা জঙ্গিনেতার কাছে পৌঁছে দেন। আসলে ওই সময় পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য স্থাপনের চেষ্টা করছিল মনমোহন সিংয়ের সরকার। ইয়াসিনের এই দাবি শোরগোল ফেলে দিয়েছিল দেশে।

এনআইএ-র দাবি, ইয়াসিনের অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। তাঁর জন্য যাবজ্জীবন সাজা যথেষ্ট নয়, ওনাকে ফাঁসি দেওয়া হোক।

সেই ঘটনার রেশ টেনেই দিল্লি হাই কোর্টে এনআইএ-র পেশ করা হলফনামায় জানানো হয়েছে, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও আমলাদের নাম করলেই ইয়াসিনের অপরাধ কম হয়ে যায় না। জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের প্রধান একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। উনি লস্কর প্রধান হাফিজ সইদ ও হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান সৈয়দ সালাউদ্দিন-সহ পাকিস্তানের একাধিক শীর্ষ জঙ্গি নেতার সঙ্গে ওর দহরম মহরম ছিল। জম্মু ও কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদে মদত যোগাতে ও ভারত বিরোধী ষড়যন্ত্রে হাত ছিল এই জঙ্গির। সেই লক্ষ্য এগিয়ে নিয়ে যেতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, সাংসদ ও মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগ ছিল ওর। শুধুমাত্র সহানুভূতি আদায় করতেই দেশের শীর্ষ নেতাদের নাম নিয়েছে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী। এরপরই এনআইএ জানায়, ইয়াসিনকে ফাঁসি দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, আপাতত ইউএপিএ মামলায় যাবজ্জীবন জেলের সাজা কাটাচ্ছেন ইয়াসিন। নিজের সাজার বিরুদ্ধে ইউএপিএ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন ‘জঙ্গি নেতা’। সেখানেই তিনি দাবি করছেন, ‘অস্ত্র ছেড়ে দিয়েছি, আমি এখন গান্ধীবাদী।’ ইউএপিএ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া হলফনামায় ইয়াসিন বলেন, “১৯৯৪ সালেই আমি অস্ত্র ছেড়েছি। ৩ দশক হয়ে গেল। আমি এখন গান্ধীবাদী।” ইয়াসিনের বক্তব্য, “ঐক্যবদ্ধ কাশ্মীরের স্বার্থেই আন্দোলন করছি। তবে সেটা অহিংসার পথে।” তবে ইয়াসিনের ভোলবদলে একেবারেই ভোলার নয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement