শীর্ষ আদালতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বড় জয়। 'ডিএ আইনি অধিকার, বকেয়া ডিএ দিতেই হবে,' এমনই মন্তব্য আদালতের। অবিলম্বে বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ মেটাতে হবে রাজ্যকে, সাফ নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। তবে রাজ্যের আবেদন আংশিক মঞ্জুর করেছে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ডিএ পরিবর্তনশীল। সেই কারণে ৬ মার্চের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে বাকি বকেয়ার কতটা পরিমাণ ডিএ দেওয়া হবে তা নিয়ে। ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে প্রথম কিস্তির টাকা। মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হবে রিপোর্ট।
অবিলম্বে বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ দিতে হবে রাজ্যকে, সাফ নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোলের। তবে রাজ্যের আবেদন আংশিক মঞ্জুর করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ডিএ পরিবর্তনশীল। সেই কারণে ৬ মার্চের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। সেখানে বকেয়া ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারজন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ৬ সপ্তাহ সময়। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে বকেয়া ডিএ দেয়নি রাজ্য। বরং সুপ্রিম কোর্টের কাছে অতিরিক্ত ৬ মাস সময় চাওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়েছিল শুনানি। আজ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ। এদিন বিচারপতি সাফ জানান, ডিএ আইনি অধিকার, বকেয়া ডিএ দিতেই হবে।
বৃহস্পতিবার আদালত স্পষ্ট জানায়, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দু দফায় মিটিয়ে দিতে হবে মে মাসের মধ্যে। তবে প্রথম কিস্তি দিতে হবে মার্চের ৩১ তারিখের মধ্যে। তারপর যা বাকি থাকবে তার কতটা অংশ দেওয়া হবে, কতদিনের মধ্যে দিতে হবে, সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটি। ওই কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন, তরলোক সিং চৌহান (অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি, ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট), গৌতম ভাদুরি (অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, ছত্তিশগঢ় হাই কোর্ট) ও কম্পট্রোলার অডিটর জেনারেল অব ইন্ডিয়া বা তাঁর মনোনীত প্রতিষ্ঠানের সবথেকে সিনিয়র আধিকারিক। সুপ্রিম নির্দেশ অনুযায়ী, মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে একটি রিপোর্ট পেশ করতে হবে ওই কমিটিকে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, কমিটিকে লজিস্টিক্যাল-সহ সব সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করে দিতে হবে রাজ্যকে। কমিটির সদস্যদের পারিশ্রমিক কত হবে, তা ঠিক করবেন চেয়ারপার্সন। প্রথম কিস্তি দেওয়ার পর রাজ্যকে কমিটির তৈরি করে দেওয়া সূচি মেনে রাজ্যকে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
সুপ্রিম রায়ে খানিকটা স্বস্তিতে রাজ্য সরকারি কর্মীরা। রায় ঘোষণার পরই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ভাস্কর ঘোষ সাফ জানান, এরপরও যদি রাজ্য সুপ্রিম নির্দেশ কার্যকর না করে তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। এ বিষয়ে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, “আজ বিচারপতিরা ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। কোর্ট বলেছে, ডিএ দিতে হবে। কর্মচারীদের জয় হয়েছে। একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছে।”
