এসআইআর পর্বে এত মৃত্যু, এত মানুষের হয়রানি নিয়ে শুরু থেকেই সরব ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারবার সুর চড়িয়েছেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। একাধিক বার চিঠি লিখেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। দিল্লি গিয়ে বৈঠকও করেছেন। কিন্তু তিনি যে সত্যিই সশরীরে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে যাবেন, তা হয়তো বিরোধীদের কেউই আঁচ করতে পারেননি! মমতা শুধু শীর্ষ আদালতে এসআইআর শুনানিতে হাজিরই থাকলেন না, সওয়ালও করলেন। কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্যের পালটা জবাবও দিলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত, মমতার এই 'রূপ' দেখে বিরোধীরা তো দিশাহারা হবেনই, এই ঘটনা ছাপ রেখে যাবে বাংলার সাধারণ জনতার মনেও।
রাস্তায় নেমে আন্দোলনই যে একমাত্র পথ, তা নিজের রাজনৈতিক জীবনে বারবার 'প্রমাণ' করেছেন মমতা। 'জননেত্রী' তকমাও পেয়েছেন। মঞ্চে-মিছিলে মানুষের কথা তুলে ধরতে অভ্যস্ত সেই নেত্রীই সুপ্রিম কোর্টেও এই মর্মেই সওয়াল করলেন। এসআইআর নিয়ে মমতা নিজেও একটি মামলা করেছেন শীর্ষ আদালতে। তাতে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে তিনি যে যে বিষয় তুলে ধরেছেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। মমতার উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “আপনার পিটিশনে কিছু বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এই বিষয়টি উত্থাপন করার জন্য যে, স্থানীয় ভাষায় কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে এখন। আমরা কিছু একটা উপায় বার করব।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, মমতার এই সক্রিয়তা মমতা-বিরোধী ভোটারদের মনেও ছাপ ফেলবে। কারণ এসআইআর পর্বে মোটামুটি সকলেই হয়রানির শিকার। দলমত নির্বিশেষে মুখ্যমন্ত্রী আদতে তাঁদের সকলের হয়েই আদালতে সওয়াল করেছেন।
অনেকের মত, বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা যে ভাবে সওয়াল করেছেন, তাতে আবার স্পষ্ট হয়ে গেল, তাঁর মতো জননেত্রী বাংলায় নেই। ভবিষ্যতে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শীর্ষ আদালত যা-ই রায় দিক না কেন, সাধারণ জনতার মনে মমতার 'জননেত্রী' ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হবে। শাসকদলের নেতারা একান্ত আলোচনায় বলছেন, জনপ্রতিনিধির অর্থ যিনি জনতার কথা বলবেন। সুবিধা-অসুবিধায় তাঁদের পাশে থাকবেন। কিন্তু তা যে শুধু বিধানসভা বা সংসদে নয়, প্রয়োজনে শীর্ষ আদালতেও, তা-ই বুঝিয়ে দিলেন নেত্রী মমতা।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি সৌজন্য: বার অ্যান্ড বেঞ্চ
এক নেতার কথায়, "এসআইআর পর্বে লাখ লাখ মানুষ হয়রানির শিকার। তাঁদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি। এতে তাদের সাহায্য করছে নির্বাচন কমিশন। আমাদের নেত্রী তার বিরুদ্ধেই গর্জে উঠেছেন। মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবার তাঁদের কথা উনি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও বললেন। এই দৃশ্য সাধারণ মানুষ মনে রাখবেন।"
সাধারণ জনতার মনে এই অভিঘাতে আসন্ন বিধানসভা ভোটে তৃণমূল উপকৃত হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের মত, সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করে আরও তিন পাখি মেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী! এক, মমতা বুঝিয়ে দিলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে তিনিই একমাত্র মুখ। এসআইআর পর্বে মানুষের হয়রানি নিয়ে বঙ্গের বিজেপি নেতারা যে কতটা 'উদাসীন', তা-ও প্রমাণ করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দেখিয়ে দিলেন, সাধারণ মানুষের কথা বলতে সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে সওয়াল করতেও পিছপা হবেন না। বিরোধীরা অবশ্য একে 'নাটক' বলেই মন্তব্য করছেন। যদিও তা নিয়ে ভাবিত নয় শাসকদল। এক নেতার কথায়, "আমাদের নেত্রী যা করার করে দিয়েছেন। দেখিয়ে দিলেন, উনি চুপচাপ বসে নেই। মানুষের জন্য উনি সর্বক্ষণ লড়াই করতে প্রস্তুত।"
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এসআইআরে এত মানুষের নাম বাদ গেলে কি তৃণমূল বিপাকে পড়বে? তাতে মমতা জবাব দিয়েছিলেন, তেমনটা হওয়ার তো কোনও সম্ভাবনাই নেই। যদি দলীয় সমর্থকদের কারও নাম কাটা যায়, তাহলেও সমস্যা নেই, কারণ বিজেপির লোকেরাই তাঁকে ভোট দিয়ে দেবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, মমতার এই সক্রিয়তা মমতা-বিরোধী ভোটারদের মনেও ছাপ ফেলবে। কারণ এসআইআর পর্বে মোটামুটি সকলেই হয়রানির শিকার। দলমত নির্বিশেষে মুখ্যমন্ত্রী আদতে তাঁদের সকলের হয়েই আদালতে সওয়াল করেছেন। এতে বিরোধী ভোটও নিজের দিকে টানতে সক্ষম হবেন। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এসআইআরে এত মানুষের নাম বাদ গেলে কি তৃণমূল বিপাকে পড়বে? তাতে মমতা জবাব দিয়েছিলেন, তেমনটা হওয়ার তো কোনও সম্ভাবনাই নেই। যদি দলীয় সমর্থকদের কারও নাম কাটা যায়, তাহলেও সমস্যা নেই, কারণ বিজেপির লোকেরাই তাঁকে ভোট দিয়ে দেবেন।
মমতার সক্রিয়তা ভোটের আগে তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরও সক্রিয় করে তুলবে। শাসকদলেরই একাংশ মনে করছেন, এসআইআর পর্বে শুভেন্দু অধিকারীদের হুমকিতে কার্যত সিঁটিয়ে গিয়েছেন দলের নিচুতলার কর্মীরা। কিন্তু মমতা যে ভাবে লড়াইয়ের ময়দানে একেবারে সামনে দাঁড়িয়ে লড়ছেন, তাতে তাঁরা এবার উজ্জীবিতই হবেন। ভোটের মাস দেড়েক আগে যা ভীষণ জরুরি বলেই মনে করছেন শাসকনেতারা।
