দেশের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের কমিটি থেকে প্রধান বিচারপতিকে ছেঁটে ফেলার আইন বাতিল করার দাবি মানল না সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত বলছে, ওই সময় একটি 'শূন্যস্থান' পূরণের জন্য সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল। সেই নির্দেশ কোনও আইনকে বদলে দিতে পারে না।
দ্বিতীয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের সময় দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নিয়োগ আইনে বদল আনা হয়। আগে এই পদে নিয়োগের জন্য তিন সদস্যর কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা। ২০২৩ সালেই সুপ্রিম কোর্টের ৫ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ওই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেসময় কেন্দ্র ওই নিয়মের বিরোধিতা করে। যদিও কেন্দ্রের আপত্তি উড়িয়েই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে নিরপেক্ষতার স্বার্থে ওই আইন পাশ করায় শীর্ষ আদালত।
কিন্তু রাতারাতি শীর্ষ আদালতের সেই রায় বদলাতে শুনানি পর্ব শেষ হওয়ার পরই একটি অর্ডিন্যান্স জারি করে মোদি সরকার। কেন্দ্রের নতুন অর্ডিন্যান্সে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বদলে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সদস্য করা হয়। পরে সংসদে আইন পাশ করিয়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সেই আইনের বিরুদ্ধে আবার সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়। বিরোধী শিবিরের দাবি ছিল, এভাবে সংসদে সংখ্যাধিক্যের জোরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অবমাননা করতে পারে না কেন্দ্র। তাছাড়া এটাতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে নিরপেক্ষতা বিঘ্নিত হচ্ছে। আদালতে দীর্ঘদিন ধরে সেই মামলা চলছে।
বুধবার শীর্ষ আদালত ওই মামলায় বলেছে, "সেসময় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল একটি শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্যে। সেই রায় কখনও স্থায়ী আইনের পরিবর্ত হতে পারে না। তাছাড়া ওই রায় দেওয়া হয়েছিল আইন পাশের আগে। ফলে আইনের উপর রায়ের কোনও প্রভাব পড়বে না।" অর্থাৎ মোদি সরকারের আইনে এখনই হস্তক্ষেপ করছে না শীর্ষ আদালত। তবে এই মামলার শুনানি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
