অর্থই অনর্থের কারণ! নাবালক সন্তানের হাতে গাড়ির চাবি দেওয়া, ফুর্তির জন্য টাকা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। পুণের পোর্শে-কাণ্ডে মৃত্যু হয়েছিল আইটি কর্মী দুই যুবক-যুবতীর। মূল অভিযুক্ত কিশোরকে বাঁচাতে রক্তের নমুনা বদলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তিন জনের বিরুদ্ধে। প্রায় দেড় বছর আগের ওই মামলায় সোমবার তাঁদের জামিন দিল শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি ওই ঘটনায় অভিভাবকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল দুই বিচারপতি বিভি নাগারত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞার বেঞ্চ।
২০২৪ সালের ১৯ মে পোর্শে গাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটেছিল পুণের কোরেগাও পার্কে। উলটো দিক থেকে আসা একটি মোটরবাইকে ধাক্কা মারে গাড়িটি। এর ফলে মৃত্যু হয় বাইকে থাকা দুই আইটি কর্মীর। দুর্ঘটনার পরেই আটক করা হয়েছিল নাবালক গাড়িচালককে। সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল বলেই অভিযোগ। এমনকী তদন্তে উঠে এসেছে, ওই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করানো ছিল না। ঘাতক গাড়িটিতে কোনও নম্বর প্লেটও ছিল না। যদিও মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে একাধিক বেনজির শর্তে ১৭ বছরের কিশোরকে জামিন দেয় জুভেনাইল আদালত। স্রেফ রচনা লিখে জামিন পেয়ে গিয়েছিল সে। তীব্র বিতর্কের মধ্যে সেই জামিন বাতিল হয়ে যায়। জুভেনাইল আদালতের নির্দেশে নাবালককে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।
আসলে দুর্ঘটনার পরে কিশোরের শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। সেই রিপোর্টে দেখা যায়, কিশোরের শরীরে মদ খাওয়ার বা নেশা করার কোনও চিহ্ন নেই। যদিও পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় নতুন করে রিপোর্ট করানো হয়। এবার দেখা যায়, কিশোর মদ্যপান করেছিল। ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থাও করেছিল পুলিশ। এতেই জানা যায় তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে বদলে ফেলা হয়েছিল রক্তের নমুনা। এর জেরেই গ্রেপ্তার হন তিন অভিযুক্ত আদিত্য অবিনাশ সুদ, আশিষ সতীশ মিত্তল এবং অমর সন্তোষ গাইকোয়াড়। সোমবার দেড় বছর পর তাঁদের জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট।
পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “ছোট সন্তানের হাতে গাড়ির চাবি দেওয়া, ফুর্তি করার জন্য টাকা দেওয়া— এগুলি কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়।” দুই বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বাবা-মা নিজেদের সন্তানকে সামলে রাখতে পারেন না বলেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে।
