আদালতের অপব্যবহার করা হচ্ছে। আইপ্যাক মামলায় (IPAC Case) কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। মামলায় আইনজীবীর সওয়াল, মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সওয়াল করা হচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে এমন কিছু যুক্তি দেখানো হচ্ছে তাতে স্পষ্ট আদালতের অপব্যবহার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আদালতকে যাতে রাজনৈতিক প্রচারের অস্ত্র না করা হয় সেই আবেদনও জানান মেনকা গুরুস্বামী। পাশাপাশি কেন্দ্রের আইনজীবীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যদিও ইডির পালটা দাবি, বাংলার আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। আইনের শাসন কীভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে তা তুলে ধরার কথা জানান কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তথা ইডির আইনজীবী তুষার মেহতা।
বুধবারের পর আজ বৃহস্পতিবার ফের সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয়েছে আইপ্যাক মামলার শুনানি। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের এজলাসে এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। মামলার শুনানিতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্ত চলছে। প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ইডি আধিকারিকরা মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা হারাচ্ছেন। তাঁর দাবি, ইডির আধিকারিকরাও ভারতীয় নাগরিক। কিন্তু যা ঘটনা ঘটেছে বিআর আম্বেডকর কখনও কল্পনা করেননি।
অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্ত চলছে। প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ইডি আধিকারিকরা মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা হারাচ্ছেন।
সওয়াল-জবাবে এদিন তুষার মেহতা অভিযোগ করে জানায়, তল্লাশি চলাকালীন পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। জানায়, তল্লাশি চালাতে হলে পুলিশকে জানাতে হবে। এর মধ্যেই শতাধিক পুলিশকর্মীকে নিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। মামলার শুনানিতে তাঁর ঘটনাস্থলে যাওয়া নিয়ে ফের প্রশ্ন তোলেন তুষার মেহতা। শুধু তাই নয়, আইনজীবীর আরও অভিযোগ, বেশ কিছু ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যেগুলি আর্থিক পাচার মামলায় প্রাসঙ্গিক। পরে পুলিশ জানায়, অনধিকার প্রবেশ নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে। তুষার মেহতার কথায়, কখনই এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কখনই আলাদা ঘটনা হিসাবে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না বলেও সওয়াল। ফলে ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানান তুষার মেহতা। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিপি এবং পুলিশের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানানো হয়। প্রয়োজনে আদালতের নজরদারিতে যাতে তদন্ত হয় সেই দাবিও জানানো হয়।
উল্লেখ্য এদিন শুনানিতে নাম না করে রাজীব কুমারকে একহাত নেন তুষার মেহতা। সওয়ালে তিনি বলেন, প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারকে রাজ্যসভার সাংসদ করা হয়েছে। যা নাগরিক হিসাবে খুবই উদ্বেগ এবং লজ্জাজনক।
