খাস দিল্লিতে (Delhi) ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। চাকরি হারানোর প্রতিশোধ নিতে আইআরএস আধিকারিকের কন্যাকে ধর্ষণ করে খুন করল এক ব্যক্তি! জানা গিয়েছে, ওই আধিকারিকের বাড়িতে পরিচারক হিসাবে কাজ করত অভিযুক্ত। মাসখানেক আগে তাকে বরখাস্ত করা হয়। প্রতিশোধে আধিকারিকের কন্যাকে খুন করেছে সে, এমনটাই প্রাথমিকভাবে অভিযোগ।
অভিযুক্তের নাম রাহুল মীনা। দিল্লির অমর কলোনি এলাকার এক কেন্দ্রীয় আধিকারিকের বাড়িতে কাজ করতেন তিনি। রাহুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আশেপাশে অনেকের থেকে ধার নিয়ে সেটা আর শোধ করতেন না। এছাড়াও নানা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মাসখানেক আগে তাকে কাজ থেকে বরখাস্ত করেন কেন্দ্রীয় আধিকারিক। সেই ছাঁটাইয়ের জেরেই আধিকারিকের কন্যাকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে রাহুলের বিরুদ্ধে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বুধবার বাড়িতে একাই ছিলেন আধিকারিকের ২২ বছর বয়সি কন্যা। সকাল আটটা নাগাদ বাড়ি ফিরে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন আধিকারিক এবং তাঁর স্ত্রী। নির্যাতিতার পোশাক বেশ কিছু জায়গায় ছেঁড়া ছিল। পুলিশের অনুমান, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে আধিকারিকের কন্যাকে। ধর্ষণের পর গলায় মোবাইল চার্জার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়েছে। তবে মেডিক্যাল পরীক্ষার পরে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ হবে।
আধিকারিকের কন্যা দিল্লি আইআইটির প্রাক্তনী। ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি ছিলেন নৃত্যশিল্পী।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, আধিকারিকের বাড়ির অধিকাংশ তালাই পাসকোডের মাধ্যমে খোলে। দীর্ঘ আট মাসে ওই বাড়িতে কাজ করার ফলে সেই পাসকোডগুলি রাহুলের জানা ছিল। বাড়ির চাবির ডুপ্লিকেটও ছিল তাঁর কাছে। বুধবার সকালে সেই চাবি ব্যবহার করে এবং পাসকোড দিয়ে অন্তত চারটি তালা খোলেন তিনি। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে, সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ রাহুল ওই বাড়িতে ঢোকেন। ঘণ্টাখানেক পরে পোশাক বদলে বেরিয়ে যান। তারপরে দিল্লির দ্বারকা এলাকায় একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে।
উল্লেখ্য, আধিকারিকের কন্যা দিল্লি আইআইটির প্রাক্তনী। ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি ছিলেন নৃত্যশিল্পী। নিজের বাড়িতে এহেন পরিণতি হল উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কন্যার, সেই দেখে ফের প্রশ্ন উঠছে দিল্লির নারী নিরাপত্তা নিয়ে।
