একবার জনপ্রতিনিধি হয়ে গেলেই সারাজীবন নিশ্চিন্তি! যাবতীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা, কোনওরকম খরচ নেই, মাসের শেষে মোটা অঙ্কের বেতন, আবার মোটা অঙ্কের পেনশন। এসবেও অবশ্য নেতামন্ত্রীরা সন্তুষ্ট নন। মাঝে মাঝেই দেখা যায় মন্ত্রী-বিধায়করা নিজেরাই নিজেদের বেতন বাড়ানোর জন্য আইনসভায় বিল আনছেন। আর তাতে যদি রাজকোষে চাপ আসে, তাহলে আমজনতা তো আছেই। তাঁদের উপর কর বসাও। এই প্রবণতার মধ্যে এবার সম্পূর্ণ উলটো ছবি দেখা গেল কংগ্রেস শাসিত তেলেঙ্গানায়।
রাজ্যের পেনশনভোগী এবং সরকারি কর্মীদের বকেয়া বেতন ও পেনশন মেটাতে মন্ত্রীরা নিজেদের বেতনই অর্ধেক কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সব মন্ত্রীই নিজেদের বেতনের অর্ধেকটা আত্মত্যাগ করতে রাজি হয়েছেন। আসলে এই মুহূর্তে তেলেঙ্গানার হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর প্রাপ্ত পেনশন বকেয়া। কিছু সরকারি কর্মীর বেতনও বকেয়া। সব মিলিয়ে রাজ্যের পেনশনভোগীদের ৮ হাজার কোটি এবং কর্মীদের সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
তেলেঙ্গনা সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী পোঙ্গুলেতি শ্রীনিবাস রেড্ডি জানিয়েছেন, আগামী ১০০ দিনের মধ্যে সব বকেয়া মেটানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্য স্বেচ্ছায় তাঁদের বেতনের ৫০ শতাংশ ছেড়ে দেওয়ার সঙ্কল্প নিয়েছেন। প্রয়োজনে অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও একই পথে হাঁটবেন। টাকা জোগাড়ের জন্য 'রিসোর্স মোবিলাইজেশন’ সাব-কমিটিও গঠিত হয়েছে। এর আগে কংগ্রেস শাসিত হিমাচলপ্রদেশও একই পথে হেঁটেছে। তেলেঙ্গানাও সেটারই অনুকরণ করতে চাইছে।
যদিও বিরোধীরা বলছে, সরকারের ভ্রান্ত নীতির জন্যই রাজ্যের কোষাগারের বেহাল দশা। এমনকী কর্মীদের বেতনও মেটাতে পারছে না সরকার। যদিও কংগ্রেস সরকারের দাবি, ওই বকেয়া পূর্ববর্তী ভারত রাষ্ট্র সমিতির সরকারের তৈরি। কংগ্রেস আমলে নতুন করে কোনও বকেয়া তৈরি হয়নি।
