‘অপারেশন ত্রাশি’ ঘিরে চাঞ্চল্য কিশ্তওয়ারে। জম্ম ও কাশ্মীরের ওই অঞ্চলে জঙ্গিদের গুলিতে আহত হয়েছেন ৮ জওয়ান। তাঁদের মধ্যে একজন শহিদও হয়েছেন। সেনা তল্লাশিতে মিলেছে পাক মদতপুষ্ট জইশ জঙ্গিদের বাঙ্কার! যা দেখে বিস্মিত সেনা। দেখা গিয়েছে, বাঙ্কারে লুকিয়ে থেকে দিব্যি ম্যাগি-ভাত খেয়েই দিন কাটছিল তাদের। স্থানীয় সংযোগ ছাড়া এটা সম্ভব নয় বলেই মনে করছে সেনা। পুরো বিষয়টাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কার্গিল ধাঁচের বাঙ্কার বানিয়ে কিশ্তওয়ারে আত্মগোপন করেছিল জঙ্গিরা। তাদের ডেরার সন্ধান পেয়েছে সেনা। দেখা গিয়েছে, সেখানে রয়েছে ৫০ প্যাকেট ম্যাগি, টমেটো, আলু-সহ টাটকা সবজি, ১৫ রকমের মশলা, ২০ কেজি বাসমতী চাল, রান্নার গ্যাস, শুকনো কাঠ। অর্থাৎ অনায়াসেই ওই প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকতে গেলে যা যা দরকার সবই ছিল মজুত। সেনার দাবি, পাক জঙ্গি সাইফুল্লা ও তার শাগরেদ আদিল এখানেই লুকিয়ে ছিল। রীতিমতো পাথর দিয়ে তৈরি দেওয়ালের আড়ালে লুকিয়ে ছিল তারা। লক্ষ্য ছিল, কোনওভাবে সেনা তল্লাশি চালালে আড়াল থেকে গুলি চালিয়েও নিরাপদে গাঢাকা দেওয়া যাবে।
কিস্তওয়াড়ের চতরু এলাকার সোন্নার গ্রামে ‘অপারেশন ত্রাশি’ চালিয়েছে সেনা। জঙ্গিদের গুলিতে আহত হয়েছেন ৮ জওয়ান। তাঁদের মধ্যে একজন শহিদও হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সেনার কাছে খবর আসে কিস্তওয়াড়ের চতরু এলাকার সোন্নার গ্রামে বেশ কয়েকজন জঙ্গি গাঢাকা দিয়ে রয়েছে। গোপন খবরের ভিত্তিতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে অভিযানে নামে সেনা ও পুলিশের যৌথবাহিনী। সেই অভিযানে জঙ্গিদের তরফে অতর্কিত হামলা চলে।
দুই থেকে তিন জন পাক মদতপুষ্ট জইশ জঙ্গি অতর্কিতে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি গ্রেনেড ছোড়ে জওয়ানদের লক্ষ্য করে। এই হামলায় আহত হন ৮ জওয়ান। এঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এয়ারলিফট করে নিয়ে যাওয়া হয় উধমপুরের সেনা হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসা চলাকালীন শহিদ হন ‘হোয়াইট নাইট ক্রপসে’র জওয়ান গজেন্দ্র সিং।
