সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইন্ডিগোর বিমানে ভুয়ো বোমাতঙ্ক ছড়ানোর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। নাগপুর থেকে কলকাতাগামী ওই বিমানে বোমাতঙ্ক ছড়ানোর ঘটনায় আগেই এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার জানা গেল, ধৃত ব্যক্তি একজন গোয়েন্দা আধিকারিক! তিনি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আই বি)-র নাগপুর শাখায় কর্মরত। অন্তত তেমনটাই তাঁর আইনজীবীর দাবি। খোদ গোয়েন্দা আধিকারিক ভুয়ো বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছেন? বিষয়টি হজম করা কঠিন হয়ে উঠছে তদন্তকারীদের পক্ষে।
গত ১৪ নভেম্বর নাগপুর থেকে কলকাতাগামী ইন্ডিগোর বিমানে বোমতঙ্ক ছড়ায়। বিমানটিকে ছত্তিশগড়ের রায়পুর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। দ্রুত ১৮৭ জন যাত্রী এবং ৬ বিমানকর্মীকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়। যদিও বিমানে তল্লাশি চালিয়ে বোমার হদিশ মেলেনি। শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট হয়, বিমানে বোমা থাকার খবরটি ছিল ভুয়ো।
এর পর ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। রায়পুর থেকে অনিমেষ মণ্ডল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা হয়। অনিমেষের আইনজীবী ফয়জল রিজভি দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেল আদতে এক জন গোয়েন্দা আধিকারিক। শুরুতে অনিমেষের পরিচয় গোপন রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই আইনজীবী। যদিও পালটা রায়পুর পুলিশের সুপার সন্তোষ সিং দাবি করেছেন, আই বি এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ জিজ্ঞাসাবাদের পরেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সরকারি হিসাবে চলতি বছরের ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ৯৯৪টি বিমানে বোমা রাখার ভুয়ো তথ্য ছড়ায়। এর জেরে বিঘ্নিত হয়েছে স্বাভাবিক পরিষেবা। হেনস্তার শিকার হয়েছেন যাত্রীদের পাশাপাশি বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থার কর্মীরাও। তদন্তে দেখা গিয়েছে, মূলত সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়ো বার্তা ছড়ানো হচ্ছে। যার জেরে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র। এমনকী বিমান ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়াতে আইনে সংশোধনের বিষয়েও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছে কেন্দ্র। এই আবহে কদিন আগে বিমানবন্দর নিরাপত্তা শাখায় বিশেষ ইউনিট চালু করেছে সিআইএসএফ।