সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাত পেরোলেই স্বাধীনতা দিবস।তারই প্রাক্কালে দেশভাগের সেই ভয়াবহ দিনগুলির কথা মনে করালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট 'বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস' উপলক্ষে এক্স হ্যান্ডেলে নমো লিখলেন, 'ভারত আজ দেশভাগের বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস পালন করছে। ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়ে অসংখ্য মানুষের অসহ্য দুর্ভোগ, যন্ত্রণা ও বিপর্যয়কে স্মরণ করার দিন।'
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আরও লিখলেন, 'আজ সেই সকল মানুষের অদম্য মানসিক শক্তিকে শ্রদ্ধা জানানোর দিন, যাঁরা সেই অকল্পনীয় দুঃখের মধ্যেও নতুন করে জীবন শুরু করার সাহস পেয়েছিলেন। অনেকেই সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে এসে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাঁদের জীবনের গল্প আমাদের সামনে মানবিক সহিষ্ণুতা ও সাহসের উদাহরণ। এই দিনে আমরা শুধু সেই অতীতকে স্মরণ করি না, বরং ভবিষ্যতের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে শান্তি রক্ষা, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং আমাদের বিবিধ সংস্কৃতির বন্ধনকে আরও মজবুত করার জন্য এগিয়ে যাই।'
১৯৪৭ সালের ১৪ অগস্ট। শুধু ভারতবর্ষ নয়, গোটা বিশ্বের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত দিন।কারণ, ব্রিটিশ সরকারের কূটনৈতিক চালে আর র্যাডক্লিফ সাহেবের কলমের খোঁচায় আর মহম্মদ আলি জিন্নার দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ দ্বিখণ্ডিত হল। আসলে বোধহয় দ্বিখণ্ডিত নয়, ত্রিখণ্ডিত। একদিকে পশ্চিম পাকিস্তান, অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তান। যে মানুষটা জানত, যেখানে তাঁর ঘর, বড় হয়ে ওঠা, আত্মীয়স্বজন-কাছের মানুষ সবাই যেখানে মিলেমিশে থাকে সেটাই তাঁর দেশ।
গুটিকয়েক লোকের তুঘলকি সিদ্ধান্তে হঠাৎই সেই দেশটা একদিন হয়ে যায় পরদেশ। সে জানতে পারে তার ধর্মের আর তার লোকজনের দেশ সেটা নয়। তার দেশ কাঁটাতারের ওপারে। নিজের ঘর, স্বজন সব ছেড়ে চলে যেতে হবে। আর নতুন দেশে তার পরিচয় হবে শরণার্থী। এর পরবর্তী ইতিহাস সকলেরই জানা। কিন্তু দেশভাগের ফলে অসংখ্য মানুষকে যে ক্ষতি মুখ বুজে মেনে নিতে হয়েছে তা অপূরণীয়। সে কথা এদিন আরও একবার সকলকে স্মরণ করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
