শুল্ক কমছে ঠিকই, কিন্তু বিকিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাষ্ট্রের সম্মান। ভারতকে 'পুতুলের' মতো নাচাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যস্ত ট্রাম্পকে তোষামোদ করতে। কার্যত এমনই অভিযোগ তুলে মোদিকে তুলোধোনা করল কংগ্রেস। হাত শিবিরের অভিযোগ, মোদি জমানায় দেশ 'ট্রাম্প নির্ভর' হয়ে উঠেছে।
সোমবার কার্যত সকলকে চমকে দিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তির কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নিজের সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প জনান, এই বাণিজ্যচুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার পর মোদিকে তোপ দেগে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ লেখেন, 'মনে হচ্ছে আজই (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ট্রাম্পের কথা হয়েছে। এই তথ্য ভারতের তরফে নয় বরং ভারতে অবস্থিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের তরফে জানানো হয়েছে। এই ঘটনা রুটিনে পরিণত হয়েছে, যেখানে ভারতের নিজস্ব কার্যকলাপের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা তাঁর নিযুক্ত প্রতিনিধি আমাদের জানান। পরিস্থিতি ট্রাম্প নির্ভর হয়ে উঠছে।'
পাশাপাশি এক্স হ্যান্ডেলে রমেশ আরও লেখেন, 'অপারেশন সিঁদুর থামানোর ঘোষণা ওয়াশিংটন ডিসির তরফে করা হয়েছিল। উনিই (ট্রাম্প) ওয়াশিংটন থেকে রুশ ও ভেনেজুয়েলা থেকে ভারতের তেল কেনা বিষয়ে আপডেট দিয়েছিলেন। এবার ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করলেন। যার সম্পূর্ণ তথ্য সামনে আসা এখনও বাকি।' এপরই লেখেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি কোনও কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে যথেষ্ট চাপে রয়েছেন। দুই নেতার মধ্যে উষ্ণতা থাকলেও এখন প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর সাথে দেখা করতেও অস্বস্তি বোধ করছেন। মোদি হার মেনে নিয়েছেন। তিনি কোনওভাবেই 'মাদার অফ অল ডিলসে'র জনক হতে পারবেন না।' কংগ্রেস নেতা ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, 'মোগাম্বো ওয়াশিংটনে স্পষ্টতই খুশি।'
জয়রাম রমেশ লেখেন, 'প্রধানমন্ত্রী মোদি কোনও কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে যথেষ্ট চাপে রয়েছেন। দুই নেতার মধ্যে উষ্ণতা থাকলেও এখন প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর সাথে দেখা করতেও অস্বস্তি বোধ করছেন। মোদি হার মেনে নিয়েছেন। তিনি কোনওভাবেই 'মাদার অফ অল ডিলসে'র জনক হতে পারবেন না।'
ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে দীর্ঘ সময় ধরে টানাপোড়েন চলছিল। গত বছর ২০২৫ সালে পরপর দু’বার ভারতের পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের কথা বলেছিল আমেরিকা। ভেনেজুয়েলার খনিজ তেল কেনার বেজায় চটেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্স। সেজন্য ভারত-সহ একাধিক দেশের পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল। পরে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ফের চাপ বাড়িয়েছিল আমেরিকা। আরও বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্কও চাপানো হয়। ফলে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, মোদি জানেন তিনি (ট্রাম্প) তাঁর উপর খুশি নন। তাঁকে খুশি করা প্রয়োজন।
দীর্ঘ দিনের টানাপোড়েনের পর অবশেষে সেই শুল্ক কমানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, এক্ষেত্রে ট্রাম্পের তরফে শর্ত দেওয়া হয়েছে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনছে হবে ভারতকে। শোনা যাচ্ছে এই শর্তে রাজিও হয়েছেন মোদি। শুল্ক কমানোর ঘোষণার পর এক্স হ্যান্ডেলে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে মোদি লিখেছেন, “প্রিয় বন্ধু রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আমি আনন্দিত। ভারতে তৈরি পণ্যের উপর এখন ১৮% শুল্ক কমানো হয়েছে জেনে আনন্দিত। এই ঘোষণার জন্য ভারতের ১৪০ কোটি জনগণের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পকে অনেক ধন্যবাদ।” যদিও বিরোধীদের তরফে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, রাশিয়ার সঙ্গে পুরনো বন্ধুত্ব জলাঞ্জলি দিয়ে কেন বিনা বাক্য ব্যয়ে ট্রাম্পের সব দাবি মেনে নিচ্ছেন?
